Logo

খেলা

নাহিদের গতি আর তানজিদের ব্যাটে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

Icon

মশিউর রহমান

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৩৬

নাহিদের গতি আর তানজিদের ব্যাটে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

মিরপুরের হোম অব ক্রিকেট-এ আজ মঙ্গলবার দেখা মিলল এক অন্যরকম বাংলাদেশের। গতির ঝড় তুলে কিউই ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা, আর সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালালেন তানজিদ হাসান তামিম।

ফলাফল৮৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরল স্বাগতিক বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিতব্য তৃতীয় ম্যাচটি রূপ নিয়েছে অঘোষিত ফাইনালে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া নিউজিল্যান্ডকে শুরুতেই চেপে ধরে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে এদিন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন নাহিদ রানা। ইনিংসের সপ্তম ওভারে বোলিংয়ে এসেই প্রথম বলে হেনরি নিকোলসকে (১৩) সাজঘরে ফেরান তিনি। এরপর একে একে তুলে নেন ৫টি উইকেট। ১৪০ কিলোমিটারের ওপর টানা বোলিং করে কিউই ব্যাটারদের থিতু হতে দেননি তিনি। তার ৫টি উইকেটের ডেলিভারি গতি ছিল যথাক্রমে ১৪৪.৭, ১৪৬.৮, ১৪৬.১, ১৪৪.১ ও ১৪১.৬ কিমি/ঘণ্টা। পাকিস্তানের পর এটি তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফার

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ওপেনার নিক কেলি একাই লড়াই করেছেন। ১০২ বলে ১৪টি চারের সাহায্যে ৮৩ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি। মোহাম্মদ আব্বাসের সাথে তার ৫৬ রানের জুটিটিই ছিল কিউইদের একমাত্র প্রতিরোধ। তবে ব্যক্তিগত ৮৩ রানে শরিফুলের বলে আউট হলে নিউজিল্যান্ডের ২০০ পার করার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। নাহিদ রানা ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন ২টি করে উইকেট।

১৯৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ২১ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান (৮) ও সৌম্য সরকার (৮)। তবে তৃতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ১১০ বলে ১২০ রানের বিধ্বংসী জুটি ম্যাচটি পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

তানজিদ তামিম এদিন ছিলেন মারকুটে মেজাজে। মাত্র ৫৮ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ১০টি চার ও ৪টি নান্দনিক ছক্কার মার। সেঞ্চুরির পথে এগোলেও শেষ পর্যন্ত বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন তিনি। অন্যদিকে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ঠান্ডা মাথায় তুলে নেন ক্যারিয়ারের আরও একটি অর্ধশতক। তবে ৫০ রান করার পর পায়ে ক্র্যাম্প অনুভব করায় তিনি রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন।

লিটন দাস (৭) তার শততম ওয়ানডেতে ব্যর্থ হলেও জয় নিশ্চিত করতে বেগ পেতে হয়নি টাইগারদের। তাওহীদ হৃদয়ের ৩১ বলে ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংস এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ৩৫.৩ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

ম্যাচসেরা নাহিদ রানা তার সাফল্যের রহস্য নিয়ে বলেন, "আজকের পরিকল্পনা ছিল লাইন-লেংথ বজায় রেখে গতির ব্যবহার করা। আগের ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি।"

এদিকে কিউই ব্যাটার নিক কেলি পরাজয় স্বীকার করে বলেন, "নাহিদ রানার গতিই মূল পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। ১৪৫ কিমি গতির সাথে সুইং সামলানো সত্যিই কঠিন ছিল।"

২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার পথে এই জয় বাংলাদেশের জন্য এক বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড: ১৯৮/১০ (৪৮.৪ ওভার); কেলি ৮৩, আব্বাস ১৯। নাহিদ ৫/৩২, শরিফুল ২/৩২।

বাংলাদেশ: ১৯৯/৪ (৩৫.৩ ওভার); তানজিদ ৭৬, শান্ত ৫০*, হৃদয় ৩০*। লেনক্স ২/৩৬।

ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: নাহিদ রানা।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন