ক্রিস গেইল
এতদিন ব্যাট হাতে মাঠ মাতিয়ে বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ চষে বেড়িয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং গ্রেট ক্রিস গেইল। এবার তাকে দেখা যাবে একেবারেই নতুন এক ভূমিকায়। ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘গ্লাসগো মুগাফিয়ান্স’-এর অন্যতম কর্ণধার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন এই ‘ইউনিভার্স বস’। ভারতভিত্তিক মুগাফি গ্রুপের সঙ্গে অংশীদারিত্বে এই দলের মালিকানা কিনেছেন তিনি।
মজার বিষয় হলো, মুগাফি গ্রুপের অন্যতম
প্রধান মালিক বলিউড তারকা অভিষেক বচ্চন। ফলে এখন থেকে গ্লাসগো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে অভিষেকের
সহ-মালিক হিসেবে কাজ করবেন গেইল। নতুন এই বিনিয়োগ প্রসঙ্গে গেইল বলেন, “গ্লাসগো মুগাফিয়ান্সের
সহ-মালিক হওয়া আমার ক্যারিয়ারের এক রোমাঞ্চকর নতুন অধ্যায়। ইউরোপকে আমি ক্রিকেটের ‘শেষ সীমান্ত’ বলে মনে করি।
এই লিগের মাধ্যমে স্থানীয় প্রতিভারা বিশ্বমঞ্চে উঠে আসবে এবং ভবিষ্যতের নায়ক তৈরি হবে।”
অভিষেক বচ্চনও গেইলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন,
“ক্রিস গেইলের
মতো কিংবদন্তিকে আমাদের যাত্রায় পাশে পেয়ে আমরা আনন্দিত। ইটিপিএল কেবল একটি লিগ নয়,
এটি ইউরোপকে বিশ্ব ক্রিকেটের শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম।”
আগামী ২৬ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া এই
লিগটি ইতোমধ্যেই বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গেইল ও অভিষেক ছাড়াও এই লিগের
সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ক্রিকেট ও ক্রীড়া বিশ্বের আরও অনেক রথি-মহারথি। আমস্টারডামের দলের
সঙ্গে যুক্ত আছেন অজি লিজেন্ড স্টিভ ওয়াহ ও হকি আইকন জেমি ডায়ার।
অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন মিচেল মার্শ, বেলফাস্টের
দলের সহ-মালিক হিসেবে আছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, এডিনবরায় বিনিয়োগ করেছেন কিউই তারকা
কাইল মিলস ও নাথান ম্যাককালাম। নেতৃত্বে থাকবেন মিচেল স্যান্টনার এবং ডাবলিনে আগে গ্লাসগো
দলের প্রতি আগ্রহ দেখালেও বর্তমানে রাহুল দ্রাবিড় ও রবীচন্দ্রন অশ্বিনের নেতৃত্বাধীন
একটি গোষ্ঠী ডাবলিন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির দিকে মনোযোগ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস
ক্রিকেট বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী আসর বসবে ২৬ আগস্ট থেকে
২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মোট ৬টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে ৩৩টি ম্যাচ। ফ্র্যাঞ্চাইজি
শহরগুলো হলো—গ্লাসগো, এডিনবরা,
ডাবলিন, বেলফাস্ট, আমস্টারডাম ও রটারডাম। ৪৬ বছর বয়সী ক্রিস গেইল ১৯৯৯ থেকে ২০২১ সাল
পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শেষ করার পর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে
নিজেকে অপরিহার্য করে তুলেছিলেন। এবার মালিক হিসেবে ইউরোপের ক্রিকেট বিপ্লবে তিনি কতটা
সফল হন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

