হোম কন্ডিশন সবাই ব্যবহার করে, আমরাও প্রস্তুত : শাহিন আফ্রিদি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ২১:২২
২০২৪ সালে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার ক্ষত এখনো শুকায়নি পাকিস্তানের। সেই হারের প্রতিশোধ আর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এবার বাংলাদেশে এসেছে সরফরাজ আহমেদের শিষ্যরা।
আগামী শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয়
ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টের আগে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পাকিস্তানের পেস
ইউনিটের মূল ভরসা শাহিন শাহ আফ্রিদি। সেখানে মিরপুরের উইকেট, নতুন কোচ এবং বাংলাদেশের
শক্তিমত্তা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেন তিনি।
মিরপুরের উইকেট বরাবরই স্পিন-সহায়ক বা
‘স্লো’ প্রকৃতির
হয়ে থাকে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শাহিন আফ্রিদি বেশ পরিণত জবাব দেন। তিনি মনে
করেন, ঘরের মাঠে সুবিধা নেওয়াটা ক্রিকেটেরই অংশ। আফ্রিদি বলেন, “আপনি যদি দেখেন, বাংলাদেশও যখন তাদের ঘরের
মাঠে খেলে, তখন তারা স্পিনবান্ধব উইকেট বানায়। এটি দোষের কিছু নয়। যে দলই নিজেদের কন্ডিশনে
খেলুক না কেন, তারা সেই কন্ডিশন ব্যবহার করার চেষ্টা করবে। আমরাও নিজেদের মাটিতে স্পিন
সহায়ক উইকেট ব্যবহার করেছি।”
তবে এবার মিরপুরের উইকেটে কিছুটা ঘাস বা
সবুজের ছোঁয়া দেখে রোমাঞ্চিত এই বাঁহাতি পেসার। তিনি আশা করছেন, পেসারদের জন্য এখানে
ভালো সুযোগ থাকবে এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তাদের বোলিং ইউনিট প্রস্তুত রয়েছে।
পাকিস্তান ক্রিকেটে বড় পরিবর্তনের ঢেউ
লেগেছে কোচিং প্যানেলে। জেসন গিলেস্পি বা মাইক হেসনদের মতো বিদেশি কোচদের অধ্যায় চুকিয়ে
পাকিস্তান এখন ভরসা রাখছে ঘরের ছেলে ও সাবেক সফল অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের ওপর। সরফরাজকে
কোচ হিসেবে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শাহিন। তার মতে, সরফরাজই এখন পাকিস্তান দলের জন্য ‘সেরা পছন্দ’।
আফ্রিদি বলেন, “সরফরাজ ভাই আমাদের সাথে খেলেছেন, এমনকি
আমাদের অনেকের অভিষেক ম্যাচেও তিনি অধিনায়ক ছিলেন। তিনি খুব ভালো করেই জানেন কোন খেলোয়াড়কে
কোন কন্ডিশনে কীভাবে ব্যবহার করতে হবে। আর উমর গুলের মতো দেশি কোচ থাকায় আমাদের জন্য
পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলা অনেক সহজ হয়েছে। আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির মিল থাকায় যোগাযোগটা
অনেক সহজ হয়ে গেছে।”
পাকিস্তানের বর্তমান টেস্ট র্যাঙ্কিং
(সাত বা আট নম্বর) নিয়ে হতাশা গোপন করেননি শাহিন। তার মতে, পাকিস্তানের মতো দলের অবস্থান
তলানিতে থাকা সন্তোষজনক নয়। তাই এই সিরিজটিকে কেবল দ্বিপাক্ষিক লড়াই হিসেবে দেখছে না
পাকিস্তান। আফ্রিদি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে কোয়ালিফাই করা। সামনে
আমাদের দীর্ঘ একটা টেস্ট মৌসুম পড়ে আছে। তাই প্রথম টেস্টের প্রস্তুতি আমাদের জন্য খুব
গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেটটাই খেলার চেষ্টা করব।”
বাংলাদেশকে নিজেদের মাঠে ‘কঠিন প্রতিপক্ষ’ হিসেবে মেনে নিয়েছেন আফ্রিদি।
বিশেষ করে বাংলাদেশের উদীয়মান পেসার নাহিদ রানার গতি ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নজর
কেড়েছে তার। রানার প্রশংসা করে শাহিন বলেন, “নাহিদ রানা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য দারুণ
সম্ভাবনাময় একজন বোলার।” তবে চিরচেনা রসিকতার ছলে যোগ করেন, “আশা করি এই ফর্মটা পাকিস্তানের বিপক্ষে
ম্যাচে খুব বেশি কাজে আসবে না!”
পাকিস্তানের জন্য এই সফরটি একদিকে যেমন
র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির সুযোগ, অন্যদিকে গত বছরের হারের প্রতিশোধ নেওয়ার মিশন। মিরপুরের
স্পিন বিষ নাকি শাহিনদের গতির লড়াই—৮ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে কার জয় হবে, তা
দেখতে মুখিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব। তবে শাহিন আফ্রিদির আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ বলে দিচ্ছে,
এবার মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশকে এক চুলও ছাড় দিতে রাজি নয় পাকিস্তান।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

