যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান
বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে সময়ের সাথে লড়াই
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ২০:৩৪
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব এবার এসে পড়েছে ফুটবল মাঠেও। বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর এক মাসও বাকি নেই, অথচ চরম এক অনিশ্চয়তা আর প্রস্তুতি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল।
দেশটির হেড কোচ আমির ঘালিনোই স্বীকার করেছেন,
দীর্ঘ সময় ম্যাচ প্র্যাকটিস না থাকায় ফুটবলারদের ফিটনেস ও আন্তর্জাতিক মানের খেলার
উপযোগী করে তুলতে তাদের কোচিং স্টাফকে এখন তুরস্কের ক্যাম্পে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে
হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর দেশটিতে পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়। উদ্ভূত
পরিস্থিতির কারণে মার্চ মাস থেকেই ইরানের ঘরোয়া ফুটবল লিগ ‘পার্সিয়ান গালফ
প্রো লিগ’ অনির্দিষ্টকালের
জন্য স্থগিত করা হয়। ইরান ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআর) জানিয়েছে, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার
আগে ঘরোয়া লিগ আর মাঠে গড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে দলের সিংহভাগ খেলোয়াড় গত প্রায়
সাত সপ্তাহ ধরে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।
গত শনিবার কোচ ঘালিনোই বিশ্বকাপের জন্য
যে ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছেন, তার মধ্যে ২২ জনই খেলেন ইরানের বিভিন্ন স্থানীয়
ক্লাবে। গত মার্চের শেষভাগে তুরস্কের আনতালিয়াতে কোস্টারিকা ও নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে
দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার পর থেকেই এই ফুটবলাররা তেহরানের জাতীয় দলের কলোসিয়াম ক্যাম্পে
বন্দি অবস্থায় অনুশীলন করছেন।
তুরস্কের উদ্দেশ্যে দল রওনা দেওয়ার আগে
ঘালিনোই ফেডারেশনের অফিসিয়াল ম্যাগাজিনকে বলেন, “স্বাভাবিকভাবেই
খেলোয়াড়দের বর্তমান ফিটনেস ও প্রস্তুতির মাত্রা নিয়ে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। তবে
তুরস্কে আগামী আড়াই থেকে তিন সপ্তাহের যে কন্ডিশনিং ক্যাম্প রয়েছে, তা দিয়ে আমরা এই
ঘাটতির ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পুষিয়ে নিতে পারব বলে আশা করি। আমাদের ঘরোয়া লিগের খেলোয়াড়দের
আধুনিক ফুটবলের গতি ও টেকনিকের স্তরে উন্নীত করতে হবে। বয়সের দিক থেকে তারা ভালো অবস্থানে
থাকলেও, অনেক জায়গাতেই এখনো উন্নতির প্রচুর অবকাশ রয়েছে।”
বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের
ঝালিয়ে নিতে আগামী ২৯ মে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে
ইরান। এরপর ফিফার বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী আগামী ১ জুন ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ
দল ঘোষণা করবেন কোচ। এছাড়া তুরস্কের ক্যাম্পেই আরও একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার চেষ্টা
করছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। তবে ইরানের মূল চিন্তা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা
নিয়ে।
কারণ, আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর
পর অ্যারিজোনার বেসক্যাম্পে পুয়ের্তো রিকোর বিরুদ্ধে একটি ক্লোজড-ডোর (বন্ধ দুয়ার)
প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে তাদের। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফুটবলারদের
মার্কিন ভিসা পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহেও ভিসা না
পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’-তে থাকা ইরান
আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান
শুরু করবে। এরপর ২১ জুন একই মাঠে তারা মুখোমুখি হবে শক্তিশালী বেলজিয়ামের। আর ২৬ জুন
সিয়াটলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হবে ‘টিম মেল্লি’ খ্যাত ইরান।
কোচের আশা, প্রথম ম্যাচের অন্তত ৪-৫ দিন আগেই দল কাঙ্ক্ষিত শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস
ফিরে পাবে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

