বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের দীর্ঘদিনের একটি আক্ষেপ ও আড়ালের অভিমান দূর হলো অবশেষে। হোম অব ক্রিকেট খ্যাত মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গৌরবময় দেয়ালে এতদিন কেবল পুরুষ ক্রিকেটারদের কীর্তি ও নাম শোভা পেত। এবার সেখানে মাথা উঁচু করে সগৌরবে স্থান করে নিলো দেশের নারী ক্রিকেটারদের নাম ও তাদের অর্জনের স্বীকৃতি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান
অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালের বিশেষ উদ্যোগে শেরে-ই বাংলা স্টেডিয়ামে স্থাপন
করা হয়েছে মেয়েদের এই ‘অনার্স বোর্ড’।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে
নিজের ভেরিফাইড পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের এই ঐতিহাসিক ও আনন্দের
খবরটি নিশ্চিত করেছেন স্বয়ং তামিম ইকবাল।
উল্লেখ্য, গত বছর মিরপুর স্টেডিয়ামের মূল
ভবনের প্রবেশমুখে পুরুষ ক্রিকেটারদের কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি অনার্স বোর্ড স্থাপন
করা হয়েছিল, যেখানে টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটারদের নাম ও পরিসংখ্যান জায়গা পায়। তবে দেশের
নারী ক্রিকেটের এত এত গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য থাকা সত্ত্বেও সেখানে তাদের জন্য কোনো বোর্ড
ছিল না, যা নিয়ে নারী ক্রিকেটারদের মনে এক ধরনের মনকষ্ট ও হতাশা কাজ করছিল।
সেই আক্ষেপ দূর করার গল্পটি জানিয়ে বিসিবি
সভাপতি তামিম ইকবাল তার পোস্টে লেখেন, “এই দুটি বোর্ডে
গর্বের অক্ষরে খোদাই করা আছে আমাদের জাতীয় ক্রিকেটারদের নাম, বাংলাদেশের হয়ে যারা খেলেছেন
উইমেন’স ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের মূল ভবনে ঢোকার মুখে এক পাশের দেয়ালে ছেলেদের দলের
অনার্স বোর্ড আছে। কিন্তু মেয়েদের অনার্স বোর্ড ছিল না। ওদের সঙ্গে বৈঠকের সময় ব্যাপারটি
নিয়ে ওরা কিছুটা আক্ষেপ করেছিল। এখন একই প্রবেশমুখের আরেক পাশের দেয়ালে মেয়েদের অনার্স
বোর্ডও করা হয়েছে এবং এটা ওদের প্রাপ্য।”
নারী ও পুরুষ ক্রিকেটারদের সমান মর্যাদা
এবং মাঠের অবদানকে একই সুতোয় গেঁথে তামিম ইকবাল আরও যোগ করেন, “নারী দল হোক বা
পুরুষ দল, সবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, সবাই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে, সবারই এই
সম্মান প্রাপ্য। সবাই মিলেই আমরা বাংলাদেশের ক্রিকেট।”
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের মূল ভবনের
প্রবেশদ্বারের এক পাশে এখন ছেলেদের ও ঠিক তার বিপরীত পাশের দেয়ালে মেয়েদের ওয়ানডে ও
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারদের নাম খোদাই করা বোর্ডটি শোভা পাচ্ছে।
দেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,
বিসিবির এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারী ক্রিকেটারদের অবদানকে কেবল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিই
দেওয়া হয়নি, বরং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে লিঙ্গ সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য ও
ইতিবাচক বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তামিম ইকবালের
এই দ্রুত ও সম্মানজনক সিদ্ধান্ত ক্রীড়ামোদীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

