সালাউদ্দিন
কখনো বলিনি আমাকে জাতীয় দলের কোচ বানাতেই হবে
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ২১:০১
সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয় এবং তাদের টানা দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইটওয়াশ করার গৌরবময় দিনে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ড্রেসিংরুম যেমন মেতেছিল উদযাপনে, তেমনি সেখানে মিশে ছিল বিদায়ের সুর। জয় দিয়েই জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচের অধ্যায় শেষ করলেন ঘরোয়া ক্রিকেটের মাস্টারমাইন্ড মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
১৮ মাসের সফল ও উত্থান-পতনের মিশন শেষে
তিনি যোগ দিচ্ছেন বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটে। বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা
স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সালাউদ্দিন তাঁর বিদায়, মাঝের অস্থির সময়, সমালোচনার
জবাব এবং এইচপি নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন। কোনো রাখঢাক
না রেখেই সাবেক এই সিনিয়র সহকারী কোচ জানান, জাতীয় দলের হেড কোচ হওয়ার কোনো আক্ষেপ
তাঁর কখনো ছিল না।
বাংলাদেশ দল বাজে খেললে কোচদের নিয়ে যে
ট্রোল ও সমালোচনা হয়, তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, “আমি কোনো দিন বলিনি আমাকে জাতীয় দলের কোচ
বানাতেই হবে। আপনারাই বলেছেন, আপনারাই বানিয়েছেন, আপনারাই বের করেছেন। দিনশেষে আমি
কোচ, যেখানে কাজ করে মজা পাব সেখানেই করব। আমি আক্ষেপ নিয়ে বাঁচি না। আপনারা বাইরে
থেকে চিন্তা করছেন ওই সময় যে কি না কি হয়ে গেল! তবে আমরা তো ভেতরে ছিলাম, কখনো এসব
নিয়ে চিন্তা করিনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল দল সামনে এগোচ্ছে কি না। শেষ ছয় মাসে আমাদের
অনেক উন্নতি হয়েছে। দলের ভেতর কোনো সমস্যা ছিল না।”
জাতীয় দলের ট্রানজিশন পিরিয়ড বা বদলের
সময়টা সহজ ছিল না। পঞ্চপাণ্ডবসহ সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিদায়ের পর তরুণদের নিয়ে দল গোছানো
প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন বলেন, “আমাদের ৫-৬ জন ম্যাচিউর প্লেয়ার, যারা অনেক দিন দেশকে সার্ভিস দিয়েছে,
তারা চলে যাওয়ার পর একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। সেটা রাতারাতি পূরণ করা সম্ভব না। ওই
সময়টা সবার একটু ধৈর্য ধরা উচিত ছিল। আমাদের দেশের মানুষকে বলব, মাঝে মাঝে বুঝতে হয়
আসলে কখন ধৈর্য ধরতে হবে। দল এখন একটা উইনিং কালচারের (জয়ের অভ্যাস) দিকে যাচ্ছে।”
২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ধরলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ,
পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। আর পাকিস্তানকে
টেস্টে ধবলধোলাই করে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে উঠে
এসেছে শান্ত-লিটনরা। টেস্ট ইতিহাসের সেরা র্যাঙ্কিং সাতেও পৌঁছেছে বাংলাদেশ। এত সাফল্যের
পরও সালাউদ্দিনের কণ্ঠে তৃপ্তির চেয়ে বেশি ঝরল তাড়না।
তিনি বলেন, “এই সাফল্যে সন্তুষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ
নেই। কারণ, আমরা এখন পর্যন্ত মেজর কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ বা এশিয়া কাপ)
চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের অবস্থান আরও উঁচুতে নিতে হবে।
মূল লক্ষ্য হতে হবে, দেশের মাটিতে যতগুলো টেস্ট আছে, সেগুলোতে যেন আমরা না হারি। আর
দেশের বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন সিরিজে দুই-একটা টেস্ট জিততে
পারলে আমরা শীর্ষ চারে জায়গা করে নিতে পারব।”
জাতীয় দল মিস করবেন কি না—এমন প্রশ্নে
চিরচেনা হাসিতে সালাউদ্দিন বলেন, “আমি তো আর স্টেডিয়াম বা বাংলাদেশ ক্রিকেট
ছেড়ে চলে যাচ্ছি না। ওরা এখানেই খেলবে, আমিও কাছাকাছিই থাকব। তাই মিস করার কিছু নেই।
তবে ড্রেসিংরুমের ভেতরের দারুণ পরিবেশ আর কাটানো সময়গুলো হয়তো মিস করতে পারি। তবে ক্রিকেটাররা
(টাইগার্স না থাকলেও) ঘুরেফিরে আমার অধীনেই আসবে।”
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

