ফিফা বিশ্বকাপ
চমক রেখে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ২০:৫৫
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ইংল্যান্ড। তবে প্রধান কোচ থমাস টুখেলের ঘোষিত স্কোয়াডে এক ঝাঁক মহাতারকার বাদ পড়া এবং অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তি পুরো ফুটবল বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। গত ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড দলের দুই প্রধান স্তম্ভ ম্যানচেস্টার সিটির ফিল ফোডেন এবং চেলসির প্লে-মেকার কোল পালমারকে ছাড়াই দল সাজিয়েছেন টুখেল। একই সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ডিফেন্ডার ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডও জায়গা পাননি এই বিশ্বকাপ দলে। অন্যদিকে, সবাইকে চমকে দিয়ে দলে ডাক পেয়েছেন সৌদি প্রো লিগের দল আল-আহলিতে খেলা স্ট্রাইকার ইভান টনি।
ইংল্যান্ডের দীর্ঘ ৬০ বছরের ট্রফি খরা
কাটানোর লক্ষ্যেই চেলসিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানো জার্মান মাস্টারমাইন্ড থমাস টুখেলকে
কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল ইংলিশ এফএ। দায়িত্ব নিয়েই টুখেল যে সাহসী ও কঠোর কিছু সিদ্ধান্ত
নিতে পারেন, তার প্রমাণ মিলল এই স্কোয়াড ঘোষণায়। আগামী দিনগুলোতে থ্রি-লায়ন্সরা যদি
কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পায়, তবে টুখেলের এই বাজি যে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়বে, তা বলাই
বাহুল্য।
গত ইউরোতে ইংল্যান্ডকে ফাইনালে তুলতে ফিল
ফোদেন এবং কোল পালমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে সদ্য সমাপ্ত ঘরোয়া মৌসুমে
নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে আশানুরূপ পারফর্ম করতে না পারার খেসারত দিতে হলো এই দুই তারকাকে।
একই দশা হয়েছে নটিংহাম ফরেস্টের মিডফিল্ডার মরগান গিবস-হোয়াইট এবং লিডস ইউনাইটেডের
স্ট্রাইকার ডমিনিক কালভার্ট-লুইনের; চলতি মৌসুমে ইংলিশ ফুটবলারদের মধ্যে প্রিমিয়ার
লিগে অন্যতম সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া সত্ত্বেও টুখেলের মন গলাতে পারেননি তারা।
দল থেকে বাদ পড়ার ধাক্কা লেগেছে রক্ষণভাগেও।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ৩৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়ার এবং তার ক্লাব
সতীর্থ লুক শ—উভয়কেই স্কোয়াডের বাইরে রাখা হয়েছে। দল থেকে বাদ পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
নিজের হতাশা ও বিস্ময় প্রকাশ করে ম্যাগুয়ার লিখেছেন, আমি নিশ্চিত ছিলাম যে এবারের
গ্রীষ্মে দেশের হয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারব। টুখেলের এই সিদ্ধান্তে আমি স্তব্ধ এবং
মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। তবে চোট জর্জর মৌসুম কাটানোর পরও ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার
জন স্টোন্সের ওপর আস্থা রেখেছেন টুখেল, যা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তরুণদের বাদ দিলেও টুখেল মাঝমাঠে ক্রিস্টাল
প্যালেসের উদীয়মান তারকা অ্যাডাম ওয়ার্টনের জায়গায় দলে ফিরিয়েছেন সাবেক লিভারপুল অধিনায়ক
ও ব্রেন্টফোর্ডের প্রবীণ মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসনকে। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি এসেছে
আক্রমণভাগে। ২০২৪ সালে সৌদি আরবের ক্লাব আল-আহলিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক
ফুটবলে যিনি মাত্র ২ মিনিট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন, সেই ইভান টনিকে হ্যারি কেইনের ব্যাক-আপ
স্ট্রাইকার হিসেবে দলে টেনেছেন টুখেল।
দলের ফুটবলারদের বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি
কতটা কঠিন ছিল, তা অকপটে স্বীকার করেছেন প্রধান কোচ। এক সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন,
দল থেকে কাউকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোটা প্রচণ্ড কঠিন এবং বেদনাদায়ক। আমি ব্যক্তিগতভাবে
ফোনে সেইসব খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেছি যারা অন্তত একবার হলেও আমাদের ক্যাম্পে ছিল।
তাদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ আমি টের পেয়েছি। তবে তাদের অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়েই আমি
নিজে কথা বলতে চেয়েছিলাম। সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়ে গেছে, এখন আমাদের সামনে সবকিছু পরিষ্কার
এবং আমরা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ও রোমাঞ্চিত।
২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড লড়বে গ্রুপ ‘ডি’-তে। আগামী ১৭ জুন টেক্সাসের ডালাসে
শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বজয়ের মিশন শুরু করবে টুখেলের শিষ্যরা।
এরপর ২৩ জুন ঘানা এবং ২৭ জুন পানামার মুখোমুখি হবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
একনজরে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলরক্ষক- জর্ডান পিকফোর্ড, ডিন হেন্ডারসন, জেমস ট্রাফোর্ড। রক্ষণভাগ (ডিফেন্ডার)-
রিস জেমস, টিনো লিভরামেন্টো, ড্যান বার্ন, মার্ক গুয়েহি, জন স্টোন্স, নিকো ও'রাইলি,
এজরি কনসা, জ্যারেল কোয়ানসাহ, জেদ স্পেন্স। মধ্যমাঠ (মিডফিল্ডার)- ডেক্লান রাইস, এলিয়ট
অ্যান্ডারসন, জুড বেলিংহাম, জর্ডান হেন্ডারসন, কোবি মাইনো, মরগান রজার্স, এবারিচি এজে।
আক্রমণভাগ (ফরোয়ার্ড)- হ্যারি কেইন, ইভান টনি, অলি ওয়াটকিন্স, বুকায়ো সাকা, নোনি
মাদুয়েকে, মার্কাস রাশফোর্ড, অ্যান্থনি গর্ডন।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

