বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনের তফসিল ও ভোটার তালিকার বৈধতা নিয়ে করা রিট খারিজ হয়েছে। শুনানি নিয়ে রিটটি উত্থাপিত হয়নি বিবেচনায় খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন ৭ জুন যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবির আইনজীবী মাহিন এম রহমান।
বুধবার (৩ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ৬ মে সাধারণ পরিষদ গঠন এবং পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন–২০২৬ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে সাধারণ পরিষদে ‘কাউন্সিলর’–এর নাম মনোনয়নের জন্য বিভিন্ন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি (জেলা প্রশাসক) বরাবর চিঠি পাঠান বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এ চিঠি প্রত্যাহার ও নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে ১৮ মে রিটটি করা হয়।
আরমানুল ইসলাম নয়নসহ ছয়জন আবেদনকারী হয়ে রিটটি করেন। বিসিবির সাধারণ কাউন্সিলে ২০২৫–২৯ মেয়াদের জন্য যথাযথভাবে কাউন্সিলর হিসেবে তাঁরা মনোনীত/নিযুক্ত হয়েছেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
১৬ মে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন–২০২৬–এর তফসিল ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ৭ জুন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন এবং সেদিন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কথা রয়েছে। আর এই নির্বাচন সামনে রেখে খসড়া ভোটার তালিকা ১৭ মে প্রকাশ করে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ১৯ মে প্রকাশ করা হয়।
অবশ্য ভোটার তালিকায় রিট আবেদনকারীদের (ছয়জন) নাম বাদ পড়ার প্রেক্ষাপটে ২৪ মে একটি সম্পূরক আবেদন করেন বলে জানান তাদের আইনজীবী। রিট ও আবেদনের ওপর গতকাল মঙ্গলবার ও আজ শুনানি নিয়ে আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও মো. শফিকুল ইসলাম।
রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং বিসিবির পক্ষে আইনজীবী মাহিন এম রহমান শুনানিতে ছিলেন।
পরে আইনজীবী মাহিন এম রহমান বলেন, রিটে বিসিবির নির্বাচনে হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল। দুই দিন শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিটটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে আদেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ রিটটি খারিজ হলো। হাইকোর্টের অন্য কোনো বেঞ্চে রিটটি উপস্থাপন করা যাবে না। ফলে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন ৭ জুন যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।
সম্পূরক আবেদনে ৬ মের চিঠি, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনের তফসিল প্রশ্নে রুল চাওয়া হয়। রুল হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় নির্বাচনের তফসিলের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলার কাউন্সিলর/প্রতিনিধি হিসেবে রিট আবেদনকারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে নতুন ভোটার তালিকা তৈরির পর বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
রিটে যুব ও ক্রীড়াসচিব, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান, বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি, বিসিবির প্রধান নির্বাহী, বান্দরবান, খুলনা, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বগুড়ার জেলা প্রশাসককে বিবাদী করা হয়।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

