খাঁচার ভেতর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে অ্যামেচার কমব্যাটে জয়ী বাংলাদেশি তরুণী
বাংলাদেশের অ্যামেচার কমব্যাট স্পোর্টস অঙ্গনে নতুন এক মাইলফলক হিসেবে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল আলোচিত টুর্নামেন্ট ‘জুলকান বিটডাউন’ (Zulcan Beatdown)। শনিবার (১৩ জুন) ঢাকার জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ও প্রাণবন্ত উৎসাহের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন।
দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে বক্সিং, মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ) এবং কিকবক্সিং বিভাগে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পান দেশের একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ ও তরুণী ক্রীড়াবিদ। প্রথমবারের মতো কেইজভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তারা দর্শকদের উপহার দেন দারুণ সব লড়াই।
টুর্নামেন্টজুড়ে বিভিন্ন ওজন শ্রেণিতে পুরুষ ও নারী প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে মোট ১৮টি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি লড়াইয়ে খেলোয়াড়দের আক্রমণাত্মক মনোভাব, কৌশলগত দক্ষতা এবং অসাধারণ সাহসিকতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। খাঁচার ভেতরের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই লড়াইগুলো দেশের মার্শাল আর্টসের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত দিয়েছে।
দেশিয় কমব্যাট স্পোর্টসের উদীয়মান প্রতিভাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্য নিয়েই আয়োজন করা হয় ‘জুলকান বিটডাউন’। আয়োজকদের মতে, অ্যামেচার পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক মানের ফাইটার তৈরি করা সম্ভব হবে।
কমব্যাট স্পোর্টসের নতুন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়া জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজন বাংলাদেশের মার্শাল আর্টস সংস্কৃতির দ্রুত বিকাশেরও একটি শক্তিশালী উদাহরণ। ক্রীড়াপ্রেমী, প্রশিক্ষক ও দর্শকরা খেলোয়াড়দের পেশাদার আচরণ, শারীরিক সক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক মানের প্রশংসা করেছেন।

বাংলাদেশের অ্যামেচার কমব্যাট স্পোর্টসের খেলোয়াড়রা। সৌজন্য ছবি
এ বিষয়ে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির হেড অব অপারেশন্স মাসুদুর রহমান মান্না বলেন, ভবিষ্যতে প্রফেশনাল ফাইটার পেতে হলে আমাদের অ্যামেচার ফাইটকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিতে হবে। বাংলাদেশের প্রায় সব কমব্যাট জিমকে সঙ্গে নিয়ে অ্যামেচার ফাইটকে আরও জনপ্রিয় ও উৎসাহিত করতেই আজকের এই বিশেষ আয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, এ ধরনের আয়োজন দেশের তরুণ ফাইটারদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। একই সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান যোদ্ধারাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা গৌরবের সঙ্গে তুলে ধরবেন।
অ্যামেচার পর্যায়ের এমন উদ্যোগকে দেশের কমব্যাট স্পোর্টসের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও বিশ্বমানের চ্যাম্পিয়ন তৈরির পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা। ‘জুলকান বিটডাউন’-এর সফল আয়োজন সেই আশাবাদকেই আরও জোরালো করেছে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

