ম্যাচের বয়স তখন ৭০ মিনিট, স্কোরবোর্ড বলছে ০-০। দেখে মনে হচ্ছিল রক্ষণাত্মক কৌশলে সুইজারল্যান্ডকে রুখে দিতে সফল হতে যাচ্ছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। কিন্তু শেষ ২০ মিনিটে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে যা ঘটল, তাকে এককথায় টর্নেডো বললেও কম হবে! বদলি নামা জোহান মাঞ্জাম্বির জোড়া গোল, সাথে রুবেন ভারগাস ও অভিজ্ঞ গ্রানিথ জাকার লক্ষ্যভেদে বসনিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। এই বড় জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের 'গ্রুপ বি'-এর শীর্ষস্থান দখল করল সুইসরা।
ম্যাচের শেষ ৩০ মিনিটে মোট ৫টি গোল হয়েছে।
যার মধ্যে শেষ তিনটি গোলই এসেছে ম্যাচের ৮০ মিনিটে বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচ
লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর। ১০ জনের বসনিয়াকে পেয়ে ম্যাচের শেষভাগে রীতিমতো গোল
উৎসবে মাতে মুরাত ইয়াকিনের দল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কাতারের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে
টুর্নামেন্ট শুরু করা সুইজারল্যান্ড এই ম্যাচে গোলের জন্য ছটফট করছিল। ম্যাচের ৭১ মিনিটে
কোচ মুরাত ইয়াকিন মাঠে নামান জোহান মাঞ্জাম্বিকে। আর এই পরিবর্তনই ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি
বদলে দেয়।
মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাঁ প্রান্ত
থেকে রুবেন ভারগাসের বাড়ানো ইনসুইঙ্গিং ক্রস বসনিয়ার ডিফেন্ডার অমর মেমিচ হেড করে
ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ডি-বক্সের পেনাল্টি স্পটের কাছে ওত পেতে থাকা মাঞ্জাম্বি
উড়ন্ত বলটিকে দুর্দান্ত এক সাইড ভলিতে জালে জড়ান। বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজের
কিছুই করার ছিল না।
১-০ গোলে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। ম্যাচে
ফেরার জন্য বসনিয়া যখন একটু আক্রমণের ধার বাড়াচ্ছিল, তখনই বড় ধাক্কা খায় তারা। ৮০
মিনিটে সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলোকে নিশ্চিত গোলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে পেছন
থেকে টেনে ধরেন বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচ। রেফারি জোয়াও পিনহেইরো সরাসরি
লাল কার্ড দেখিয়ে তাঁকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন।
১০ জনের দলে পরিণত হওয়া বসনিয়ার ওপর এরপর
স্টিমরোলার চালায় সুইসরা। ৮৪ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর এমবোলোর পাস থেকে নিখুঁত শটে পোস্টের
ডান কোণ দিয়ে বল জালে পাঠান রুবেন ভারগাস (২-০)। ৯০ মিনিটে আবারও স্কোরবোর্ডে নাম লেখান
মাঞ্জাম্বি। এবারও অ্যাসিস্টের ভূমিকায় ছিলেন সেই ভারগাস। তাঁর পাস থেকে নিজের জোড়া
গোল পূর্ণ করেন তরুণ মাঞ্জাম্বি (৩-০)। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে ম্যাচের রোমাঞ্চ
আরও বাড়ে। ৯১ মিনিটে বসনিয়ার বদলি খেলোয়াড় এরমিন মাহমিচ এক বজ্রগতির ভলিতে গোল করে
ব্যবধান ৩-১ করেন।
সান্ত্বনার এই গোলটি উদযাপনের রেশ কাটতে
না কাটতেই পেনাল্টি পায় সুইজারল্যান্ড। ইনজুরি টাইমের সপ্তম মিনিটে (৯৭ মিনিট) স্পট
কিক থেকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে বসনিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন সুইস অধিনায়ক
ও অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার গ্রানিথ জাকা। ফলে ৪-১ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সুইজারল্যান্ড।
এই হারের পর ২ ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ
পর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়েছে বলকান অঞ্চলের দেশ বসনিয়া। টুর্নামেন্টে তারা এ পর্যন্ত
যে ৫টি গোল খেয়েছে, তার সবগুলোই এসেছে ৭০ মিনিটের পর। নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখতে কাতারের
বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে অল-আউট ফুটবল খেলা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।
অন্যদিকে, কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া
কানাডার সংগ্রহ ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সুইজারল্যান্ড এখন টেবিলের
শীর্ষে। টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা সুইসরা
গ্রুপের শেষ ম্যাচে একই ভ্যানকুভার স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে কানাডার, যেখানে গ্রুপ
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।

