সংগৃহীত
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড়, কোচ ও সংগঠক আবদুস সাদেক আর নেই। শনিবার (২০ জুন) সকাল ৮টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বাদ আসর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘আই’ ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বনানী ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে।
আবদুস সাদেক দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের বড় ভাই। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ইশতিয়াক সাদেক দেশের একমাত্র ক্রীড়াভিত্তিক স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল টি স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। তাঁর পিতা অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহানও ছিলেন ব্রিটিশ আমলের একজন খ্যাতিমান সাঁতারু।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী
আবদুস সাদেক ছিলেন স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব। হকির পাশাপাশি ফুটবল ও ক্রিকেটেও ছিল তাঁর সমান দক্ষতা। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্রের ফুটবল ও হকি—উভয় দলেরই প্রথম অধিনায়ক হওয়ার বিরল কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর।
ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৬ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন।
স্বাধীনতার আগে অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের সদস্য হিসেবে ১৯৬৯ সালে ইউরোপ সফরে অংশ নেন আবদুস সাদেক। জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নৈপুণ্য প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে কুমিল্লা জেলা দলের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৮ সালে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম অংশগ্রহণের সময়ও হকি দলের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।
কোচ ও সংগঠক হিসেবেও সফল
খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানার পর আবদুস সাদেক কোচিংয়ে যুক্ত হন। তাঁর অধীনে ১৯৭৭ সালে আবাহনী ক্রীড়াচক্র ঘরোয়া ফুটবল লিগে কোনো ম্যাচ না হেরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে, যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্বকালে তাঁর প্রচেষ্টা ও কূটনৈতিক দক্ষতায় ১৯৮৫ সালের দ্বিতীয় এশিয়া কাপ হকির আসর জাপানের পরিবর্তে ঢাকায় আয়োজনের সুযোগ পায় বাংলাদেশ।
ক্রীড়াঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি
আবদুস সাদেকের মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, ক্লাব, সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড় এবং ক্রীড়াপ্রেমীরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
হকি, ফুটবল ও ক্রীড়া সংগঠনে তাঁর দীর্ঘ অবদান বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

