বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিলেও দেশে ফিরে বীরোচিত অভ্যর্থনা পেয়েছে মিশর জাতীয় ফুটবল দল। এক অভূতপূর্ব ও রোমাঞ্চকর ফুটবল অভিযাত্রা শেষে শুক্রবার দেশে ফেরা ‘ফারাও’দের স্বাগত জানাতে আল-আলামিন বিমানবন্দরে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার উম্মাদনাপ্রিয় সমর্থক।
মিশরীয় ফুটবলাররা বিমানবন্দর থেকে বের
হতেই পুরো এলাকা করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। সমর্থকদের হাতে ছিল দলের প্রাণভোমরা ও বিশ্বসেরা
ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ-র ছবি এবং দলের এই ঐতিহাসিক অর্জনকে উদযাপনের নানা রঙের প্ল্যাকার্ড।
এবারের বিশ্বকাপে মোহাম্মদ সালাহ-র জাদুকরী
নেতৃত্বে ইতিহাস গড়েছে মিশর। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলো বা নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা। এই
অভাবনীয় সাফল্যে পুরো মিশর জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দেশটির ফুটবলারদের এই অনন্য
কীর্তিকে সম্মান জানাতে শনিবার মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি দলের খেলোয়াড়
ও কর্মকর্তাদের সাথে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাতকারে মিলিত হবেন। এর আগে গত মঙ্গলবার এক
ফেসবুক বার্তায় প্রেসিডেন্ট সিসি ফুটবল দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছিলেন, মিশরীয় ফুটবলের
ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক অর্জন এবং মাঠের ভেতরে বীরোচিত পারফরম্যান্সের জন্য আমি
পুরো দলকে স্যালুট জানাই।
গত মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের
বাঁচা-মরার ম্যাচটি ঘিরে পুরো কায়রো সহ দেশটির প্রধান শহরগুলোর কফি শপ, বাড়িঘর এবং
পাবলিক স্কয়ারগুলোতে লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল। ব্যালকনি ও দোকানপাটে ঝুলছিল মিশরের
জাতীয় পতাকা। ম্যাচে প্রথমে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল
মিশরীয়রা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার রূপকথার মতো প্রত্যাবর্তনের
সামনে স্তব্ধ হয়ে যায় তারা।
মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে ৩টি গোল করে
ম্যাচটি ৩-২ ব্যবধানে জিতে নেয় আর্জেন্টিনা, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা কামব্যাক
হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। ম্যাচটিতে পরাজয়ের পর মাঠের রেফারিং এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট
রেফারি সিস্টেমের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
মিশরের কোচ হোসাম হাসান এবং বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ম্যাচ শেষে রেফারিদের পক্ষপাতিত্বের
সমালোচনা করেন।
বুধবার এক কড়া বিবৃতিতে ইএফএ জানায়, আর্জেন্টিনার
বিপক্ষে ম্যাচে রেফারিদের কিছু সিদ্ধান্ত আমাদের জয় কেড়ে নিয়েছে। মিশর জাতীয় দলের অধিকার
এবং স্বার্থ রক্ষা করা এমন কোনো বিষয় নয় যাকে অবহেলা বা ছোট করে দেখা যায়। আমরা এই
বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কথা বলব।
তবে মিশরের এই অভিযোগের পর বুধবার রাতেই
মুখ খোলেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা-র রেফারি কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি
কোলিনা। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, মাঠের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক ফুটবলেরই একটি স্বাভাবিক
অংশ। তবে কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়া ম্যাচ অফিশিয়ালদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ
নেই। এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ রেফারি এবং তাঁদের পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার
হুমকি তৈরি করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রেফারি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, ফুটবল পণ্ডিতদের
মতে এই বিশ্বকাপ মিশরের ফুটবলে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। হারলেও সালাহ-দের এই
লড়াকু মানসিকতা মিশরীয় ফুটবলকে আগামী দিনে আরও অনেক দূর নিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস সমর্থকদের।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

