Logo

খেলা

প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলবেন মেসি

Icon

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১৬:২৩

প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলবেন মেসি

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল মাঠে প্রায় সবই করেন লিওনেল মেসি। কিন্তু বুধবার (১৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ সেমি-ফাইনাল ম্যাচটি পুরোপুরি নতুন এক অভিজ্ঞতা দেবে রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীকে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০-এর বেশি ম্যাচ খেলে ১২৫ গোল করার পরও যে কখনো ইংলিশদের মুখোমুখি হননি আর্জেন্টাইন জাদুকর।

সব ঠিক থাকলে, আর একদিন পরই সেই অভিজ্ঞতা হয়ে যাবে মেসির। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচের এক পর্যায়ে যদিও মনে হচ্ছিল, ইংল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের সুযোগ থেকে হয়তো বঞ্চিত হবেন মেসি। তবে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে ৩-১ গোলের জয়ে টানা দ্বিতীয়বার শেষ চারে জায়গা করে নেয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

এই ম্যাচেই চলতি আসরে প্রথমবার গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি। থেমে যায় বিশ্বকাপে তার টানা ৯ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড যাত্রা। যদিও আট গোল নিয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে এবারের আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি, ২১ গোল নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

ইংল্যান্ডের জন্য মেসিকে নিষ্ক্রিয় রাখা কতটা কঠিন হতে পারে, সেটি তুলে ধরলেন বিবিসির বিশ্লেষক মাইকা রিচার্ডস। তিনি বলেন, ইংল্যান্ড পেছনে ফেলতে পারে আর্জেন্টিনাকে, কিন্তু তাদের দলে আছে সেই ছোট্ট জাদুকর মেসি। সবাই তার জন্যই খেলে। সবারই রোমাঞ্চিত হওয়া উচিত। 

‘তাকে মার্ক করা অসম্ভব, কারণ তিনি রক্ষণের দিকে ছোটেন না। তিনি এমন সব ছোট ছোট জায়গায় চলে যান, যেখানে তার থাকার কথা নয়। তিনি সঠিক সময়ে সক্রিয় হন এবং তার কৌশল সেরা। সঠিক সময়ে সঠিক পজিশন নেওয়ার ব্যাপারে তার সচেতনতা অসাধারণ। তার শটও দুর্দান্ত।’

মেসির সঙ্গে ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যামের মিল খুঁজে পান রিচার্ডস, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তার যা আছে, জুড বেলিংহ্যামেরও তাই আছে। আর এটাই জুডকে বড় মাপের করে তুলেছে- তার মানসিক দৃঢ়তা ও ক্যারিশমা আছে। যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে মেসির ক্যারিশমা সবচেয়ে বেশি। মেসির ক্যারিশমা এক অন্য স্তরের, তাই ম্যাচটি আকর্ষণীয় হতে চলেছে।’

চলতি আসরে নকআউট পর্বের প্রথম তিনটি ধাপেই বেশ ভুগতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। সাবেক ইংলিশ ফরোয়ার্ড ক্রিস সাটন বিবিসি রেডিও ৫ লাইভকে বলেন, ইংল্যান্ডের জন্য আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সবচেয়ে ভালো সুযোগ এটিই।

তিনি বলেন, আমার মনে হয়, টমাস টুখেল ও ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা বর্তমান ফর্মের এই আর্জেন্টিনা দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগটি উপভোগ করবেন। কারণ এটা কোনো দুর্দান্ত আর্জেন্টিনা দল নয়, কিন্তু জয়ের পথ খুঁজে বের করার একটা অভ্যাস তাদের আছে।

সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি বিবিসি স্পোর্টকে বলেন, মেসি রক্ষণভাগে তেমন অবদান না রাখলেও, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অসাধারণ নৈপুণ্য দিয়ে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

‘সে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের জন্য দুর্বলতা হয়ে উঠতে পারে। সে রক্ষণের দিকে ছোটে না, কিন্তু জুড বেলিংহ্যামের মতোই তারও কিছু দুর্দান্ত মুহূর্ত আসে। মেসির মূল ব্যাপারটা হলো তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা- খেলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। লিওনেল মেসিকে মার্কিং করার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো একাগ্রতা ও বোঝাপড়া। সতীর্থদের সঙ্গে এমন পজিশন নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা, যেগুলো সাধারণত নেওয়া হয় না।’

দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল বিশেষজ্ঞ টিম ভিকেরি বিবিসি রেডিও ৫ লাইভকে বলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিই সেই সেমি-ফাইনাল, যা আর্জেন্টিনা চেয়েছিল।

‘আর্জেন্টিনার সমর্থকরা যে দলকে তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে, সেই দলের বিপক্ষে না খেলে লিওনেল মেসি তার ২০০-এর বেশি ম্যাচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করতে পারতেন না।’

১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার কুখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটি ছিল ম্যারাডোনার দ্বিতীয় ম্যাচ) থেকে শুরু করে ১২ বছর পর সাঁত এতিয়েনে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড, এই দুই দেশের মধ্যকার ম্যাচগুলোতে নাটকীয়তার অভাব খুব একটা ছিল না।

তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রায় ২১ বছর পর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দল দুটি।

১৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অভিষেকের পর দল দুটি কেবল একবার মুখোমুখি হয়েছে এবং সেই ম্যাচটি হয়েছিল মেসির অভিষেকের তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে।

২০০৫ সালের জুন-জুলাইয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপ (বর্তমানে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ) জয়ে বড় অবদান রেখে, ওই বছরের অগাস্টে সিনিয়র দলে ডাক পান মেসি। তবে নভেম্বরে জেনেভায় ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি। অভিষেক ম্যাচে হাঙ্গেরির বিপক্ষে ৩০ সেকেন্ডের মাথায় লাল কার্ড পাওয়ায় তিনি নিষেধাজ্ঞায় ছিলেন।

সেই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুইবার এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষ দিকে মাইকেল ওয়েনের দুটি নাটকীয় গোলে ৩-২ ব্যবধানের জয় পায় ইংল্যান্ড।

আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড মেসির। ২০২২ সালে জাদুকরি পারফরম্যান্সে ৩৬ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে দেশকে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জেতানোর পর তার খ্যাতি আরও বেড়েছে।

পরিসংখ্যানে তাকালে দেখা যায়, সব দলের বিপক্ষেই গোল করতে ভালোবাসেন মেসি। তবে কিছু দল আছে, যাদের মুখোমুখি হতে তিনি যেন বেশি উপভোগ করেন।

গোলের দিক থেকে বলিভিয়া মেসির প্রিয় প্রতিপক্ষ। দলটির বিপক্ষে ১২ ম্যাচে তার গোল ১১টি। সাতটি করে গোল করেছেন ভেনেজুয়েলা (১৩ ম্যাচ) ও একুয়েডরের (১১ ম্যাচ) বিপক্ষে।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করেছেন পাঁচটি, দক্ষিণ আমেরিকার আরেক শক্তিশালী দল উরুগুয়ের বিপক্ষে ছয়টি।

যদিও ইউরোপিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স খুব বেশি উজ্জ্বল নয়। ক্রোয়েশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের বিপক্ষে আছে তিনটি করে গোল। ফ্রান্সের বিপক্ষে তিন ম্যাচ খেলে তিন গোল তার, যার দুটি ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে।

মেসি একাধিকবার যাদের বিপক্ষে খেলেছেন, এমন দলগুলোর মধ্যে কেবল একটি দেশই তাকে গোল করা থেকে আটকাতে পেরেছে; দলটি হলো কাতার, তাদের বিপক্ষে দুই ম্যাচ খেলেছেন সাবেক বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন