ইংল্যান্ড টেস্ট দলের প্রধান কোচ হলেন স্টিফেন ফ্লেমিং
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫৮
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজে বিপর্যয় এবং দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজ হারের পর বড় ধরনের পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট। গত আট মাসের চরম ব্যর্থতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং অধিনায়ক ও কোচের বিদায়ের পর অবশেষে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। সেই লক্ষ্যে নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংকে ইংল্যান্ড টেস্ট দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ইসিবি-র পুরুষ ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রবার্ট (রব) কী এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ চার বছরের চড়াই-উতরাইয়ের পর ইসিবি বিশ্বাস করে, ফ্লেমিংয়ের হাত ধরে টেস্ট দলের সেই হারিয়ে যাওয়া সোনালী দিন এবং নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসবে।
ফ্লেমিংয়ের নিয়োগ প্রসঙ্গে রব কী বলেন,
আমাদের এমন একজনকে প্রয়োজন ছিল, যিনি দলকে ক্রিকেটের মূল ভিত্তিগুলো (বেসিকস) সঠিকভাবে
অনুশীলন করাতে পারবেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাময়িক সাফল্য নয়, বরং অস্ট্রেলিয়া দলের
মতো বছরের পর বছর ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম
সাদা বলের ক্রিকেটে দায়িত্ব পালন করলেও লাল বলের ক্রিকেটের জন্য ফ্লেমিংকে যুক্ত করা
ইংল্যান্ড ক্রিকেটের ভবিষ্যতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে। আইপিএল সহ বিশ্বের
বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে চেন্নাই সুপার কিংসের মতো সফল ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দীর্ঘদিন সফলভাবে
কোচিং করানোর বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে ফ্লেমিংয়ের।
ইংল্যান্ড দলের সাম্প্রতিক এই পরিবর্তনের
পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল নেতৃত্বের সংকট। বেন স্টোকস স্বপ্রণোদিতভাবে নেতৃত্ব
ছাড়ার পর এবং ম্যাককালামের বিদায়ের পর টেস্ট দলের দায়িত্ব নেওয়ার মতো কোনো তৈরি বিকল্প
খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তরুণ জ্যাক ক্রলি কিংবা অলি পোপকে ভবিষ্যতের অধিনায়ক হিসেবে
বিবেচনা করা হলেও অফ-ফর্মের কারণে দলে তাঁদের জায়গা ধরে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। আবার
হ্যারি ব্রুক কিংবা জ্যাকব বেথেলের মতো তরুণদের এখনো টেস্ট অধিনায়কত্বের কঠিন চাপের
জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত মনে করছে না ক্রিকেট বোর্ড। ফলে আবারও টেস্ট দলের অধিনায়কত্বের
ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছে ৩৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ব্যাটার জো রুটের হাতে। রুটের পুনরায় অধিনায়ক
হওয়া এটিই প্রমাণ করে যে, গত কয়েক বছরে ইংল্যান্ড তাদের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক তৈরির ক্ষেত্রে
সঠিক পরিকল্পনা করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
স্টিফেন ফ্লেমিং দায়িত্ব নিয়েই কেবল বর্তমান
দলের পারফরম্যান্স নয়, বরং ভবিষ্যৎ ইংল্যান্ডের জন্য কোচ ও অধিনায়ক গড়ে তোলার ওপর জোর
দিয়েছেন।
ফ্লেমিংয়ের প্রস্তাব প্রসঙ্গে রব কী বলেন,
ফ্লেমিং প্রথম দিনই বলেছেন যে, আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে তরুণ স্থানীয় কোচদের
আন্তর্জাতিক স্তরের জন্য তৈরি করা। আমরা চাই ভবিষ্যতে যখন নতুন কোচের প্রয়োজন হবে,
তখন যেন কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ইংলিশ কোচরাই তালিকায় সবার ওপরে থাকেন। যদিও পাকিস্তানের
বিরুদ্ধে আসন্ন তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের ঠিক আগে নিয়োগ পেলেও, ফ্লেমিং সেপ্টেম্বর
থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে দলের সাথে যোগ দেবেন। টানা ব্যর্থতার মেঘ কাটিয়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেট
এখন এক নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখছে।
রবার্ট কী স্পষ্ট করে বলেছেন, গত ছয় মাসে
টেস্ট ক্রিকেটে আমরা একটা বড় ধাক্কা খেয়েছি ঠিকই, তবে এই দলে অগাধ সম্ভাবনা রয়েছে।
ফ্লেমিংয়ের অভিজ্ঞতা এবং রুটের নেতৃত্বের মেলবন্ধনে ইংলিশ ক্রিকেট আবার তার সঠিক পথ
খুঁজে পাবে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

