অ্যালেক্স ইয়ালা’র ঐতিহাসিক জয়ে ফিলিপাইনে টেনিস জ্ৱর
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৯:১৮
মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রথম ফিলিপিনো খেলোয়াড় হিসেবে উইমেনস টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউটিএ) সিঙ্গেলস ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়েছেন অ্যালেক্স ইয়ালা। এই অবিস্মরণীয় জয়ের পর পুরো ফিলিপাইন জুড়ে এখন বইছে 'টেনিস জ্বর'।
ঐতিহাসিক এই সাফল্য উদযাপনে দেশটির প্রেসিডেন্ট
ম্যানিলার মালাকানিয়াং প্যালেসে তাকে জমকালো সংবর্ধনা দিয়েছেন এবং তরুণী এই তারকাকে
'জাতির গর্ব' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে বৃষ্টির বাঁধা ও প্রথম সেটে পিছিয়ে পড়ার প্রতিকূলতা পেরিয়ে শীর্ষ বাছাই জেসিকা পেগুলাকে পরাজিত করেন ইয়ালা।
জয়ের পর প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, "তুমি ফিলিপাইনের টেনিসের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছ এবং লাখ লাখ তরুণ ফিলিপিনোকে নতুন স্বপ্ন দেখার প্রেরণা জুগিয়েছ।"
খেলায় পরাজিত হলেও প্রতিপক্ষ জেসিকা পেগুলা গ্যালারিতে ফিলিপিনো সমর্থকদের উপচে পড়া
ভিড় ও উন্মাদনা দেখে বিশ্বজুড়ে টেনিসের এই জোয়ারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এর আগে গত জুলাইয়ে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইগা সোয়াটেককে সরাসরি সেটে হারিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন ইয়ালা। এরপর থেকেই বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন পরাশক্তি হিসেবে উদয় ঘটে এই ফিলিপিনো তারকার। ঐতিহ্যগতভাবে ফিলিপাইনে বাস্কেটবল, বিলিয়ার্ডস এবং বক্সিং—এই তিন খেলাই সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল।
কিংবদন্তি বক্সার ম্যানি প্যাকিয়াওর অবসরের পর দেশটি নতুন কোনো স্পোর্টস
সুপারস্টারের জন্য অপেক্ষা করছিল। এবার ইয়ালাকে 'আমাদের নতুন চ্যাম্পিয়ন' হিসেবে অভিহিত
করে প্যাকিয়াও নিজেই প্রশংসা করেছেন এবং তার এই জয়কে 'ফিলিপিনোদের লড়াকু আত্মাস্বরূপ'
বলে বর্ণনা করেছেন।
ইয়ালা’র এই জোড়া সাফল্যের প্রভাব পড়েছে
ফিলিপাইনের তৃণমূল পর্যায়েও। যে দেশে টেনিস একসময় কেবল ধনী শ্রেণীর খেলা হিসেবে গণ্য
হতো এবং কোর্টগুলো ফাঁকা পড়ে থাকত, সেখানে এখন টেনিস খেলার ধুম পড়ে গেছে। পরিস্থিতি
এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ম্যানিলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে টেনিস কোর্ট, একাডেমি
এবং সামার ক্যাম্পগুলোতে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় টেনিস ক্লাবগুলো
বাধ্য হয়ে পুরানো কোর্টগুলোর আধুনিকায়ন করছে।
তবে এই পথচলা ইয়ালা’র জন্য সহজ ছিল না।
ইউএস, ব্রিটেন বা ফ্রান্সের মতো ধনী দেশের টেনিস কাঠামোর বিশাল বাজেট ফিলিপাইনে নেই।
কুইজন সিটির সাধারণ বাস্কেটবল কোর্টের ওপর দাগ কেটে খেলা শুরু করা ইয়ালা মাত্র ১৩
বছর বয়সে স্কলারশিপ পেয়ে স্পেনের বিখ্যাত 'রাফা নাদাল একাডেমি'তে যোগ দেন।
সেই অভাবনীয় দিনগুলোর কথা স্মরণ করে ইয়ালা
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দেশে সাধারণ মানুষের জন্য আরও বেশি সরকারি টেনিস
কোর্ট ও সরঞ্জাম সহজলভ্য করা প্রয়োজন। রাজকীয় সংবর্ধনায় আবেগপ্লুত ইয়ালা দেশের উদ্দেশ্যে
বলেন, "আমার এই অর্জন পুরো ফিলিপাইনের জয়।"
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

