ম্যারাডোনা হত্যা মামলা
চিকিৎসকদের চরম অবহেলার প্রমান মিলল আদালতে
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫২
আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার অকালমৃত্যুর মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বুয়েনস আইরেসের আদালতে চলমান বিচারে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০২০ সালে ম্যারাডোনার মৃত্যুর পূর্বে তার কিডনি বিকল হওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিলেন। ফৌজদারি অবহেলার অভিযোগে ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, মনোবিদ ও নার্সিং স্টাফসহ সাতজন চিকিৎসা পেশাজীবীর বিরুদ্ধে আদালতে এই বিচার প্রক্রিয়া চলছে।
মঙ্গলবার বুয়েনস আইরেসের নিকটবর্তী একটি
আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কিডনিরোগ বিশেষজ্ঞ (নেফ্রোলজিস্ট) হার্নান ট্রিমার্কি
জানান, মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসনে থাকা ম্যারাডোনা ক্রনিক কিডনি রোগে
ভুগছিলেন।
তিনি জানান, কিংবদন্তি এই ফুটবলারের স্থূলতা,
উচ্চ রক্তচাপ এবং অতীতের কোকেন সেবনের ইতিহাসের কারণে তার কিডনিতে গুরুতর ক্ষত তৈরি
হয়েছিল। কিন্তু তার চিকিৎসায় নিয়োজিত টিম প্রতিদিনের শারীরিক পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা
এবং অত্যাবশ্যকীয় লক্ষণসমূহ মনিটর করার ন্যূনতম দায়িত্বটুকুও পালন করেনি। মৃত্যুর
আগের দুই সপ্তাহের পুনর্বাসনকালীন সময়ে ম্যারাডোনার কোনো রক্ত পরীক্ষা করারও প্রমাণ
পাওয়া যায়নি।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবল নায়ক
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর বুয়েনস আইরেসের টিগ্রেতে এক ভাড়া বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত
হয়ে ও ফুসফুসে পানি জমে (পালমোনারি ইডিমা) মারা যান। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে দেখা
যায়, মৃত্যুর আগে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে তিনি চরম যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন।
আদালতে ট্রিমার্কি জানান, ম্যারাডোনার
অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ এবং শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে পেট ফুলে যাওয়ার মতো জটিল
লক্ষণগুলো দেখে চিকিৎসকদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। তাকে হাসপাতালে না রেখে
অপর্যাপ্ত সুবিধাযুক্ত একটি বেসরকারি বাড়িতে রাখার সিদ্ধান্ত তার জীবনের ঝুঁকি বহুগুণ
বাড়িয়ে দিয়েছিল।
চলমান এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্ত
সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, যদিও তারা তাদের বিরুদ্ধে
আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ঐতিহাসিক বিচার প্রক্রিয়া
অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের প্রিয় তারকাকে
ঘিরে গড়ে ওঠা এই আইনি লড়াই এখন চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায়।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

