মানুষ ও মেশিনের ফিউশন যুগে যাচ্ছে ভবিষ্যৎ?
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০৫
বিজ্ঞান জগতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ইলন মাস্কের নিউরালিংক। যুক্তরাজ্যে শুরু হয়েছে এর নতুন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। এর মানে হচ্ছে মস্তিষ্ক আর কম্পিউটারের সরাসরি সংযোগ এখন আর কল্পনা নয়, সত্যি হতে চলেছে।
নিউরালিংক হলো একটি ছোট কয়েন আকৃতির চিপ, যা বসানো হয় মানুষের খুলিতে। এর শত শত সূক্ষ্ম ইলেকট্রোড মস্তিষ্কের নিউরনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বৈদ্যুতিক সংকেত সংগ্রহ করে। সেই সংকেত ওয়্যারলেস প্রযুক্তির মাধ্যমে চলে যায় কম্পিউটার বা স্মার্ট ডিভাইসে।
নিউরালিংক, দি মায়ামি প্রোজেক্ট, আল জাজিরা এবং ক্যাপটেক ইউনিভার্সিটি তথ্যসূত্রে জানা যায়, এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে একজন প্যারালাইজড রোগী শুধুমাত্র মনের চিন্তা দিয়েই চালাতে পারবেন কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা হুইলচেয়ার। এক কথায়, বাস্তব দুনিয়ায় হাত পা অচল হলেও ডিজিটাল দুনিয়ায় তিনি হয়ে উঠবেন স্বাধীন।
মেডরিভিউ, ফরবস, স্ট্যাটনিউজ সূত্র বলে যে, এ প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্কও কম নয়। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে গবেষণার স্বচ্ছতা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। পশুর ওপর এর পরীক্ষার নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিও উপেক্ষা করা যায় না যেমন মস্তিষ্কে সংক্রমণ, চিপ ভুল করলে কি ঘটতে পারে বা ডিভাইসই উল্টো মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কি না ইত্যাদি সুরক্ষার প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে এই প্রজেক্টের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল নিয়ে ।
তবু সম্ভাবনার ক্ষেত্র বিশাল। এএলএস বা পারকিনসনের মতো জটিল রোগীরা হয়তো প্রথমবার ডিজিটাল জগতে চলাফেরা করতে পারবেন। ভবিষ্যতে হয়তো শুধু মস্তিষ্ক দিয়েই কথা বলা, টাইপ করা, এমনকি স্মৃতি সংরক্ষণও সম্ভব হবে। ইলন মাস্ক তো আরও দূরে তাকাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, মানব মস্তিষ্ক আর এআই একসঙ্গে কাজ করবে। শুরু হবে হিউম্যান এআই ফিউশন যুগের।
আমরা কি তাহলে নতুন এক সভ্যতার দরজায় দাঁড়িয়ে আছি নাকি ধ্বংসের দুয়ারে? এর উত্তর নির্ভর করছে নিউরালিংকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলের উপর।
ডিআর এমএন

