গ্যালাক্সি এক্সআর : প্রযুক্তিতে দুর্দান্ত, কিন্তু এখনই কি সবার প্রয়োজন?
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৬
স্যামসাং তাদের নতুন গ্যালাক্সি এক্সআর (Galaxy XR) ডিভাইসের মাধ্যমে মিশ্র বাস্তবতার (Mixed Reality) জগতে এক বড় ধামাকা দিয়েছে। অ্যাপলের ভিশন প্রো'র সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাজারে আসা এই হেডসেটটি প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এটি ব্যবহারের পর প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, যন্ত্রটি চমৎকার হলেও, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর আসলে প্রয়োজন কতটুকু?
আরামদায়ক এবং হালকা ডিজাইন ভারী ভিআর হেডসেট দীর্ঘক্ষণ পরে থাকা সব সময়ই অস্বস্তিকর। তবে স্যামসাং এখানে বেশ উন্নতি করেছে। গ্যালাক্সি এক্সআরের ওজন ৫৪৫ গ্রাম, যা অ্যাপল ভিশন প্রো'র চেয়ে হালকা। এর ব্যাটারিটি আলাদা হওয়ায় (ওজন ৩০২ গ্রাম) মাথার ওপর বাড়তি চাপ পড়ে না। ফলে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে এটি পরে থাকলেও খুব একটা ক্লান্ত বোধ করেন না। স্যামসাং চেষ্টা করেছে একে নিছক একটি ‘টেক ডেমো’ বা পরীক্ষামূলক পণ্য না রেখে, দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে।
ডিসপ্লে এবং বাস্তবতা এই ডিভাইসের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর ডিসপ্লে। চোখের সামনে বিশাল সব স্ক্রিন ভাসিয়ে কাজ করা বা সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা এতে দারুণ। এর ‘পাসথ্রু’ (Passthrough) প্রযুক্তিও বেশ উন্নত। অর্থাৎ, হেডসেটটি চোখে থাকা অবস্থায়ও আপনি নিজের কফি মগটি দেখতে পাবেন বা দরজায় কে এল তা বুঝতে পারবেন।
কিন্তু সমস্যাটা কোথায়? প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ থাকা সত্ত্বেও গ্যালাক্সি এক্সআরের মূল সংকট হলো এর অপরিহার্যতা। ডিভাইসটি দিয়ে আপনি হয়তো বিশাল স্ক্রিনে কাজ করতে পারবেন বা ব্যক্তিগত থিয়েটারের মতো সিনেমা উপভোগ করতে পারবেন, কিন্তু এই কাজগুলোর জন্য চোখে একটি কম্পিউটার বেঁধে রাখার ঝামেলা কি সবাই নিতে চাইবেন?
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিটি মুগ্ধ করার মতো, কিন্তু এটি এখনো এমন কোনো বিশেষ কারণ তৈরি করতে পারেনি যার জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে এটি কিনবে। ভ্রমণের সময় বা ছোট ফ্ল্যাটে বড় স্ক্রিনের অভাব মেটাতে এটি কাজে লাগতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠার মতো উপযোগিতা এটি এখনো প্রমাণ করতে পারেনি।
সূত্র : technewsworld
এমএন

