এআই প্রযুক্তির গতানুগতিক ধারায় বদল : ১৮ কোটি ডলার ‘ফ্ল্যাপিং এয়ারপ্লেনস’
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৫
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানেই যেন বিশাল ভাণ্ডার প্রচুর তথ্য, বিশাল সব সার্ভার আর অঢেল কম্পিউটিং ক্ষমতার প্রতিযোগিতা। সিলিকন ভ্যালির এই ‘স্কেলিং’ বা আকার বৃদ্ধির ইঁদুর দৌড়ে শামিল না হয়ে সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছে নতুন এক স্টার্টআপ। নাম তাদের ‘ফ্ল্যাপিং এয়ারপ্লেনস’ (Flapping Airplanes)। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা এআই প্রযুক্তিতে এমন কিছু আমূল পরিবর্তন আনতে চায়, যা প্রচলিত ধারণার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
১৬ ফেব্রুয়ারি টেকক্রাঞ্চ-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই নতুন উদ্যোগের কথা। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র শুরুর পর্যায়ে বা সিড রাউন্ডে থাকা অবস্থাতেই প্রতিষ্ঠানটি ১৮ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা) তহবিল সংগ্রহ করেছে। তাদের এই যাত্রায় বিনিয়োগ করেছে গুগল ভেঞ্চারস (জিভি), সেকোয়া ক্যাপিটাল এবং ইনডেক্স ভেঞ্চারসের মতো বাঘা বাঘা সব বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।
কেন এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগ?
বর্তমানে চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো জনপ্রিয় এআই মডেলগুলো তৈরি করতে ইন্টারনেটের বিশাল সব তথ্য ভাণ্ডার প্রয়োজন হয়। একে বলা হয় ‘স্কেলিং ডগমা’ বা আকার বৃদ্ধির নীতি। কিন্তু ফ্ল্যাপিং এয়ারপ্লেনসের সহ-প্রতিষ্ঠাতারা বেন স্পেক্টর ও অ্যাশার স্পেক্টর মনে করেন, এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।
তাদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক যেভাবে শেখে, এআইকেও সেভাবে শেখানো সম্ভব। মানুষ সামান্য কিছু তথ্য বা অভিজ্ঞতা থেকেই অনেক কিছু শিখে নিতে পারে, যা বর্তমানের এআই মডেলগুলো পারে না। বর্তমান মডেলগুলো অনেকটা মুখস্থ করার মতো করে হাজার হাজার কোটি তথ্য গিলে তবেই কাজ করতে পারে। ফ্ল্যাপিং এয়ারপ্লেনসের লক্ষ্য হলো এমন এআই তৈরি করা, যা অনেক কম তথ্য বা ডেটা ব্যবহার করেই মানুষের মতো দক্ষ হয়ে উঠবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতারা জানিয়েছেন, তাঁরা প্রচলিত ‘ট্রান্সফরমার’ মডেল বা ‘গ্রেডিয়েন্ট ডিসেন্ট’ পদ্ধতির ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে গবেষণায় জোর দিচ্ছেন। এক সাক্ষাৎকারে তাঁরা বলেন, "আমরা এআইয়ের ভবিষ্যতে সত্যিই আমূল ও ভিন্নধর্মী কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চাই।"
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই কম তথ্যে শক্তিশালী এআই তৈরি করা সম্ভব হয়, তবে তা রোবোটিক্স এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাবে। কারণ সব ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের মতো বিশাল তথ্য ভাণ্ডার পাওয়া সম্ভব নয়।
সূত্র : techcrunch
এমএন

