চীনের তিন এআই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি চুরির অভিযোগ
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:০৮
যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টার মধ্যেই এক উদ্বেগজনক খবর সামনে এল। শীর্ষস্থানীয় মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক অভিযোগ করেছে, চীনের তিনটি ল্যাবরেটরি প্রায় ২৪ হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সুকৌশলে তাদের উন্নত প্রযুক্তি হাতিয়ে নিয়েছে। এই প্রচারণায় অ্যানথ্রোপিকের বিখ্যাত চ্যাটবট 'ক্লড' এর সঙ্গে ১ কোটি ৬০ লাখেরও বেশিবার তথ্যবিনিময় করা হয়েছে।
ফক্স নিউজ ডিজিটালের হাতে আসা একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের ডিপসিক (DeepSeek), মুনশট এআই (Moonshot AI) এবং মিনিম্যাক্স (MiniMax) নামের তিনটি প্রতিষ্ঠান এই বিপুল পরিমাণ ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল 'ডিস্টিলেশন' নামক এক বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্লড চ্যাটবটের অতি উন্নত সক্ষমতাগুলো চুরি করা।
অ্যানথ্রোপিকের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স প্রধান জ্যাকব ক্লেইন জানিয়েছেন, অত্যন্ত জটিল যুক্তিতর্ক, কোডিং এবং টুল ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোই ছিল হ্যাকারদের প্রধান লক্ষ্য। সাধারণ ব্যবহারকারীদের মতো সাধারণ প্রশ্ন না করে, তারা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও উন্নত ক্ষমতার ওপর জোর দিয়েছিল। ক্লেইন বলেন, "আমরা বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলছি যে এই ল্যাবগুলো বড় পরিসরে ডিস্টিলেশন আক্রমণ চালিয়েছে।" আইপি অ্যাড্রেসের ধরন, মেটাডেটা এবং সাধারণ গ্রাহকদের ব্যবহারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সংকেত বিশ্লেষণ করে এই জালিয়াতি ধরা পড়ে।
প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, এই চুরির প্রভাব কেবল মার্কিন কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মার্কিন এআই সিস্টেমগুলোতে যেসব নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বা 'গার্ডরেল' থাকে, চুরি করা প্রযুক্তিতে তৈরি চীনা মডেলগুলোতে তা থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অ্যানথ্রোপিক গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, নিরাপত্তাহীন এই এআই প্রযুক্তিগুলো কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোর হাতে পড়লে তা সাইবার হামলা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং ব্যাপক নজরদারির মতো বিপজ্জনক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
জ্যাকব ক্লেইন স্বীকার করেছেন যে, এই ধরনের হামলা রাতারাতি ঠেকানোর কোনো জাদুকরী সমাধান নেই। এটি অ্যানথ্রোপিকের নিজস্ব গণ্ডি পেরিয়ে একটি বৃহত্তর সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় চীনা ল্যাবগুলো নিজেদের এআই সিস্টেমের সক্ষমতা ঠিক কতটা বাড়িয়েছে তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও, তাদের এই অর্জন যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিশ্চিত করেছেন তিনি।
এই ঘটনা মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল মনোযোগ ছিল চীনের হাতে উন্নত এআই চিপ বা মডেলের সরাসরি হস্তান্তর ঠেকানোর দিকে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সরাসরি চিপ না পেয়েও শুধু চ্যাটবটকে বারবার প্রশ্ন করে বিদেশি ল্যাবগুলো তাদের নিজস্ব সিস্টেমকে উন্নত করে ফেলছে।
অ্যানথ্রোপিক তাদের এই অনুসন্ধানের ফল মার্কিন সরকার এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প অংশীদারদের জানিয়েছে। যদিও চীনা সরকার সরাসরি এই চুরির নির্দেশ দিয়েছে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ওপেনএআই মার্কিন কংগ্রেসের একটি কমিটিকে জানিয়েছিল যে, চীনের স্টার্টআপ ডিপসিক চ্যাটজিপিটি থেকে পদ্ধতিগতভাবে তাদের মেধাসম্পদ চুরি করেছে।
সূত্র : foxnews
এমএন

