Logo

প্রযুক্তি

পাঁচ হাজার মাইল বেগে চাঁদে আঘাত হানছে স্পেসএক্সের রকেট

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪৩

পাঁচ হাজার মাইল বেগে চাঁদে আঘাত হানছে স্পেসএক্সের রকেট

ছবি: সংগৃহীত

ঘণ্টায় প্রায় পাঁচ হাজার ৪০০ মাইল বেগে ছুটে বুধবার (৫ আগস্ট) চাঁদে আঘাত হানতে যাচ্ছে স্পেসএক্সের রকেটের একাংশ। সংঘর্ষটি বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে ঘটার কথা। তবে চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করা কোনো মহাকাশযান দৃশ্যটি ক্যামেরায় ধরণের মতো অবস্থানে নেই। ফলে সংঘর্ষের বিষয়টি বুঝতে সময় লাগবে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্যালকন ৯ মহাকাশযানের বিচ্ছিন্ন হওয়া ওপরের অংশটি চাঁদে আঘাত হানবে। যা প্রায় পাঁচতলা ভবনের সমান, ওজন চার হাজার কেজি। সংঘর্ষের বিষয়টি বুঝতে বিজ্ঞানীরা চাঁদের পৃষ্ঠের আগে ও পরের ছবিগুলো মিলিয়ে দেখবেন। 

এদিকে চাঁদের সঙ্গে স্পেসএক্স রকেটের সম্ভাব্য সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটির মতে, এই ঘটনায় পৃথিবীর জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই।

নাসার মুখপাত্র জিমি রাসেল বলেন, সংঘর্ষের স্থানটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে এ নিয়ে মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তিনি জানান, এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে নাসার বিজ্ঞানীরা চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে নতুন তথ্য সংগ্রহ করবেন। একই সঙ্গে মহাকাশে বিচরণকারী বিভিন্ন বস্তুকে শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তি আরও উন্নত করার সুযোগ পাবেন।

এ বিষয়ে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমির জনসাধারণবিষয়ক জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. ম্যাট বোথওয়েল বলেন, ‘বিশাল একটি বস্তুর চাঁদে আছড়ে পড়ার ঘটনা এটি। তবে এতে পৃথিবীর জন্য সামান্যতমও কোনো বিপদ নেই। আমরা কেবল ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করতে পারি।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদে এ ধরনের সংঘর্ষ নতুন কিছু নয়। পৃথিবীর মতো ঘন বায়ুমণ্ডল না থাকায় মহাকাশের বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ ও গ্রহাণু প্রায়ই চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানে। তবে এই ঘটনাগুলোর প্রভাব পৃথিবীতে পড়ে না।

বরং এ ধরনের সংঘর্ষ বিজ্ঞানীদের জন্য চাঁদের ভূতাত্ত্বিক গঠন ও মহাকাশে বস্তুর গতিপথ সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, সংঘর্ষটি চাঁদের উত্তর গোলার্ধে আইনস্টাইন ক্রেটারের কাছে ঘটবে।

ফ্যালকন ৯ রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল গত জানুয়ারিতে। এর সঙ্গে দুটি লুনার ল্যান্ডার (কক্ষপথ থেকে চাঁদের মাটিতে অবতরণের ব্যবস্থা) ছিল। মহাকাশযানের বুস্টারটি (যানের একাংশ) পৃথিবীতে ফিরে এলেও ল্যান্ডারগুলোকে নিয়ে ওপরের অংশটি মহাকাশেই থেকে যায়।

গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে নাসার সায়েন্স অ্যান্ড ড্রাগন প্রোগ্রামের পরিচালক জুলিয়ানা স্কেইমান বলেন, সাধারণত স্পেসএক্সের দ্বিতীয় অংশটিকে নিরাপদ রাখার জন্য একটি কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়। তারা সেটি করেছিলেন। কিন্তু সৌর কার্যকলাপ ও মহাকর্ষীয় শক্তির মিশ্রণ এটিকে চাঁদের পথে ঠেলে দেয়।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন