স্পেসএক্সের স্টারশিপ
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষার মুখে বিশ্বের শক্তিশালী রকেট
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫৮
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট হিসেবে পরিচিত স্পেসএক্সের স্টারশিপ এবার তার সবচেয়ে বড় এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষার মুখোমুখি। স্থানীয় সময় সোমবার প্রথমবারের মতো রকেটটি কক্ষপথে পাঠানোর চেষ্টা করবে মার্কিন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। সফল হলে এটি শুধু স্টারশিপের উন্নয়নেই বড় মাইলফলক হবে না, বদলে যেতে পারে বাণিজ্যিক মহাকাশযাত্রা ও ভবিষ্যৎ মহাকাশ অনুসন্ধানের গতিপথও।
টেক্সাসের দক্ষিণ প্রান্তের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষ এরই মধ্যে স্টারশিপের বিকট শব্দ ও বিস্ফোরণের সঙ্গে পরিচিত। ২০২৩ সাল থেকে ওই এলাকা থেকে স্টারশিপের বিভিন্ন প্রোটোটাইপ ১৩ বার উড্ডয়ন করেছে। এর প্রায় অর্ধেক পরীক্ষাই কোনও না কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনায় শেষ হয়েছে। তবে এবার ঝুঁকি আরও বেশি।
সোমবারের উৎক্ষেপণের জন্য ৭৫ মিনিটের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ওই উইন্ডো খোলার কথা।
প্রথমবার কক্ষপথে যাওয়ার চেষ্টা: এবার স্টারশিপকে শুধু আকাশে তুলে আবার ফিরিয়ে আনার পরীক্ষা করা হবে না। রকেটটি পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করবে এবং প্রথমবারের মতো কার্যকর উপগ্রহও বহন করবে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের ২৬টি স্টারলিংক ইন্টারনেট স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সফল হলে স্টারশিপের পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমের দিকে যাওয়ার পথ অনেকটাই পরিষ্কার হবে।
স্টারশিপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে উন্নত স্টারলিংক স্যাটেলাইট, মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারগুলো একসময় বিপুল বিদ্যুৎনির্ভর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল পরিচালনাতেও ব্যবহৃত হতে পারে।
এর পাশাপাশি নাসার চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনাতেও স্টারশিপ গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারী পাঠানোর জন্য স্পেসএক্সের সঙ্গে নাসার বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি রয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন মহাকাশ প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে স্টারশিপকে আরও বড় ভূমিকায় দেখতে চায় ওয়াশিংটন। আর মাস্কের দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন আরও বড়- এই বিশাল রকেট ব্যবহার করে একদিন মঙ্গলে স্বনির্ভর মানব বসতি গড়ে তোলা।
এবার আর থাকছে না আগের নিরাপত্তাব্যবস্থা: ২০১৯ সালে ছোট আকারের ‘হপ’ বা লাফ দিয়ে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে স্টারশিপের পরীক্ষামূলক উড্ডয়নগুলো মূলত এমন কক্ষপথে রাখা হয়েছে, যাকে স্পেসএক্স বলছে ‘প্যাসিভলি সেফ সাবঅরবিটাল ট্রাজেক্টরি’।
অর্থাৎ, কোনও পর্যায়ে রকেটের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারিয়ে গেলেও সেটি এমন একটি পথে থাকত, যা শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে এসে নির্ধারিত এলাকায় সমুদ্রে পড়ত। কিন্তু এবার স্টারশিপ কক্ষপথে যাওয়ার চেষ্টা করবে। ফলে এই নিরাপত্তাব্যবস্থা আর থাকবে না। কক্ষপথে পৌঁছানোর পর রকেট এত বেশি গতিতে চলবে এবং এত নির্দিষ্ট গতিপথে থাকবে যে নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটিকে সহজে পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। এতে মহাকাশে থাকা অন্যান্য উপগ্রহ ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
স্পেসএক্স জানিয়েছে, উড্ডয়নের প্রথম কয়েক মিনিটে কোনও ধরনের ত্রুটির আভাস পাওয়া গেলে নির্ধারিত ইঞ্জিন জ্বালানোর প্রক্রিয়া বাতিল করে স্টারশিপকে আবার সাবঅরবিটাল পথে ফিরিয়ে আনা হতে পারে।
ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশ প্রকৌশলের সহযোগী অধ্যাপক জোসেফ গনজালেজ বলেন, এই ধরনের পরীক্ষায় অনেক কিছুই ভুল হতে পারে। জ্বালানি ব্যবস্থায় লিক, কোনও অংশে বরফ জমে যাওয়া কিংবা ইঞ্জিন চালু না হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে কক্ষপথে থাকা একটি নিয়ন্ত্রণহীন বস্তু বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
১০ ঘণ্টা মহাকাশে থাকার পরীক্ষা: আগের অধিকাংশ স্টারশিপ পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় স্থায়ী হয়েছে এবং সবগুলোই সাবঅরবিটাল পথে পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু এবার মহাকাশযানটি প্রায় ১০ ঘণ্টা মহাকাশে থাকতে পারে। এই সময়ে এটি পৃথিবীকে ছয়বার প্রদক্ষিণ করবে এবং ২৬টি স্টারলিংক স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপন করবে। এরপর স্টারশিপকে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে এনে চিলির উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণের চেষ্টা করা হবে।
এই অবতরণও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘমেয়াদে স্পেসএক্সের লক্ষ্য হলো স্টারশিপ ও এর সুপার হেভি বুস্টার- দুটিই পুনরুদ্ধার করে বারবার ব্যবহার করা।
সুপার হেভির ইঞ্জিন নিয়েও পরীক্ষা: স্টারশিপের প্রথম ধাপের রকেট হলো সুপার হেভি বুস্টার। উৎক্ষেপণের সময় এটি স্টারশিপকে প্রথম ধাক্কা দেয়। জুলাইয়ের সর্বশেষ পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে সমুদ্রে নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণের আগে সুপার হেভির ১৩টি ইঞ্জিনের মধ্যে মাত্র আটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছিল। যদিও এতে পুরো মিশন ব্যর্থ হয়নি, ভবিষ্যতে রকেটটি পুনরায় ব্যবহার করতে হলে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত অবতরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সমস্যা সমাধানে স্পেসএক্স ইঞ্জিনের ফিল্টারিং ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য হার্ডওয়্যারে পরিবর্তন এবং ইঞ্জিন পুনরায় চালু হওয়ার নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে সফটওয়্যারে পরিবর্তন এনেছে। তবে এবারও সুপার হেভিকে স্থলভাগে ফিরিয়ে আনা হবে না। বরং সমুদ্রের ওপর নিয়ন্ত্রিত অবতরণের অনুশীলন করবে।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পুনঃপ্রবেশ: কক্ষপথ থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসার সময় স্টারশিপকে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে হবে। এর গায়ে তাপমাত্রা প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ১ হাজার ৩৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এই তীব্র তাপ থেকে মহাকাশযানকে রক্ষা করার জন্য স্টারশিপের গায়ে বিশেষ তাপরোধী টাইল বা হিট শিল্ড ব্যবহার করা হয়েছে। তবে স্পেসএক্স এখনও এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন ও উন্নয়ন করছে।
গনজালেজ বলেন, কক্ষপথে যাওয়ার পর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় স্টারশিপকে আগের সাবঅরবিটাল পরীক্ষার তুলনায় আরও বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হতে হবে। ফলে এবারের পরীক্ষা হিট শিল্ডের সক্ষমতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে।
আগের পরীক্ষামূলক উড্ডয়নগুলোর ছবিতে স্টারশিপের হিট শিল্ডে পোড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে। পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট হিসেবে সফল হতে হলে এই ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে।
পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেটই ‘হোলি গ্রেইল’: স্টারশিপের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো পুরো উৎক্ষেপণযানকে পুনঃব্যবহারযোগ্য করে তোলা। রকেটের বড় অংশ বা পুরো রকেট প্রতিবার ফেলে না দিয়ে আবার ব্যবহার করা গেলে মহাকাশে পণ্য পাঠানোর খরচ নাটকীয়ভাবে কমানো সম্ভব। এখন পর্যন্ত কোনও পূর্ণাঙ্গ কক্ষপথগামী উৎক্ষেপণযানকে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে পুনঃব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। স্পেসএক্স সেই ব্যবস্থাই তৈরি করতে চাইছে।
মাস্কের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টারশিপের তৃতীয় সংস্করণ বা ভি৩-তে পূর্ণাঙ্গ পুনঃব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। তবে সামনে আরও বড় প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
নাসার জন্য চাঁদে নভোচারী পাঠাতে হলে পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথে অবস্থানরত স্টারশিপকে মহাকাশেই পুনরায় জ্বালানি নিতে হবে। এর জন্য এক মহাকাশযান থেকে অন্য মহাকাশযানে অতিশীতল তরল জ্বালানি স্থানান্তর করতে হবে। এসব জ্বালানিকে মাইনাস ২৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা মাইনাস ১৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে হয়।
মহাকাশযানের মধ্যে এ ধরনের জ্বালানি স্থানান্তর মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে এখনও কখনো করা হয়নি। একটি চাঁদ অভিযান সফল করতে এই প্রক্রিয়া এক ডজন বা তারও বেশি বার করতে হতে পারে।
টেক্সাসের মানুষের জীবনেও প্রভাব: স্টারশিপের উড্ডয়ন শুধু মহাকাশ শিল্পেই নয়, এর উৎক্ষেপণকেন্দ্রের আশপাশের মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলছে। দক্ষিণ টেক্সাসের স্পেসএক্স-নির্ভর শহর স্টারবেস এলাকায় বসবাসকারী মানুষ বছরে কয়েকবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় রকেটের উৎক্ষেপণ দেখছেন। এসব উৎক্ষেপণের সময় সৃষ্ট শব্দ ও কম্পন নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। শব্দের তীব্রতা কখনও গুলির শব্দের মতো শোনা যায় এবং কম্পনকে ছোটখাটো ভূমিকম্পের মতো অনুভূত হতে পারে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ স্পেসএক্সের উপস্থিতিকে স্বাগত জানালেও, কয়েকজন বাসিন্দা গত এপ্রিলে অভিযোগ করে মামলা করেছেন যে, স্টারশিপের উড্ডয়নের কারণে তাদের সম্পত্তির ক্ষতি হচ্ছে। স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্ষতির সঙ্গে উড্ডয়নের সম্পর্ক প্রমাণিত হলেও তা অনিচ্ছাকৃত।
ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গনজালেজ বলেন, টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে থাকা তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিবার উৎক্ষেপণের সময় বাড়ির দেয়াল কাঁপতে দেখেন। তিনি নিজে উৎক্ষেপণ উপভোগ করলেও স্থানীয়দের সবার অভিজ্ঞতা একই নয়।
মাসে একবার থেকে ঘণ্টায় একবার উৎক্ষেপণের লক্ষ্য: মাস্কের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে স্টারশিপ মাসে এক বা দুইবার উৎক্ষেপণ করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে তিনি এমনকি প্রতি ঘণ্টায় একটি করে উৎক্ষেপণ করার লক্ষ্যও জানিয়েছেন। এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্পেসএক্স টেক্সাসের বাইরে আরও দুটি উৎক্ষেপণকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রথমটি ফ্লোরিডার স্পেস কোস্টে। নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার ও কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশনের কারণে এই অঞ্চল ইতোমধ্যে বিশ্বের ব্যস্ততম মহাকাশ উৎক্ষেপণ এলাকাগুলোর একটি। এরপর দক্ষিণ লুইজিয়ানায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি বিশাল উৎক্ষেপণকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে স্পেসএক্সের। লুইজিয়ানায় এর আগে কোনও কক্ষপথগামী রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়নি।
মাস্কের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘স্টারবেস লুইজিয়ানা’তে এক ডজনের বেশি উৎক্ষেপণ টাওয়ার থাকবে এবং সেখান থেকে প্রতিদিন ৩০টিরও বেশি স্টারশিপ উৎক্ষেপণের সক্ষমতা তৈরি করা হবে।
ফ্যালকন-৯-এর জায়গা নেবে স্টারশিপ: স্টারশিপের সক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্পেসএক্স তার বহুল ব্যবহৃত ফ্যালকন-৯ রকেটের উড্ডয়ন ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। এর প্রভাব শুধু স্পেসএক্সের ওপর নয়, পুরো বাণিজ্যিক মহাকাশ শিল্পে পড়তে পারে। কারণ ফ্যালকন-৯ বর্তমানে বহু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্যাটেলাইট ও অন্যান্য সরঞ্জাম কক্ষপথে পাঠানোর অন্যতম প্রধান বাহন।
এক বিশ্লেষকের ভাষায়, ফ্যালকন-৯-এর অবসরকে ঘিরে মহাকাশশিল্পে ইতোমধ্যে এক ধরনের ‘আতঙ্ক’ তৈরি হয়েছে। কারণ এর জায়গা নিতে স্টারশিপ কত দ্রুত সক্ষম হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
বিশেষ করে স্পেসএক্স এখনও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য স্টারশিপে আসন বা উৎক্ষেপণসেবা বিক্রির পরিকল্পনা প্রকাশ্যে জানায়নি। ফলে ফ্যালকন-৯-এর সক্ষমতা কমে গেলে বাণিজ্যিক মহাকাশযাত্রায় সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জার্মানির উৎক্ষেপণ ব্রোকার ও ইন্টিগ্রেশন প্রতিষ্ঠান এক্সোলঞ্চের প্রধান নির্বাহী রবার্ট স্প্রোলস অবশ্য মনে করেন, ফ্যালকন-৯-এর অবসর নিয়ে কিছু প্রতিক্রিয়া অতিরঞ্জিত হতে পারে। তবে মহাকাশে পণ্য পাঠানোর চাহিদা যে সরবরাহের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে, সে বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেননি। তার মতে, এই বাড়তি চাহিদা শেষ পর্যন্ত উৎক্ষেপণের খরচ বাড়াতে পারে এবং অদূর ভবিষ্যতে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনাও কম।
সব মিলিয়ে, সোমবারের পরীক্ষাটি শুধু স্টারশিপের আরেকটি উৎক্ষেপণ নয়। কক্ষপথে প্রথম প্রবেশের মাধ্যমে স্পেসএক্স একই সঙ্গে পরীক্ষা করবে তার পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি, হিট শিল্ড, ইঞ্জিন, উপগ্রহ স্থাপন ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ গভীর মহাকাশ অভিযানের ভিত্তি। সফলতা এলে মহাকাশযাত্রার নতুন অধ্যায়ের দরজা খুলতে পারে; আর ব্যর্থতা হলে সামনে থাকা প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জগুলোর কঠিন বাস্তবতাই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। সূত্র: সিএনএন
বাংলাদেশের খবর/হাসান রাজীব

