১৮৫ বছরের অবহেলা ভাঙতে চা-শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৫, ১৫:৪১
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৫, ১৪:৩৯
‘এই ভূমি আমাদের, কিন্তু আমরা তাতেই অতিথি হয়ে আছি’—চা-শ্রমিক সমাজের দেড়শ বছরের দীর্ঘ বঞ্চনার ইতিহাস যেন ঘনীভূত হয়ে উঠেছে এই এক পঙ্ক্তিতে। সেই বঞ্চনার অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত হলো চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রথম জাতীয় সম্মেলন।
রবিবার (২৯ জুন) সকাল ১০টায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে দিনব্যাপী সম্মেলনের সূচনা হয়। পরে শহরব্যাপী এক বর্ণাঢ্য র্যালিতে কয়েক শতাধিক চা-শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও যুব অংশ নেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন আহ্বায়ক সবুজ তাঁতি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘এই রাষ্ট্র চা-শ্রমিকদের মানুষ হিসেবে দেখেনি, দেখেছে কেবল শ্রমের যন্ত্র হিসেবে। জমি নেই, নাগরিক অধিকার নেই—এটা আর চলবে না।’
সম্মেলনে নবনির্বাচিত সভাপতি সবুজ তাঁতি বলেন, ‘আমরা এই মাটিতে জন্মাই, বড় হই; অথচ এই মাটিতে আমাদের কোনো জমি নেই, ঘর নেই, পরিচয়পত্র নেই। এখনই ৬০০ টাকা মজুরি ও ভূমির অধিকার চাই।’
নারী শ্রমিকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সোনাছড়া চা বাগানের নেত্রী লক্ষী প্রজাপতি। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টিতে ঘর ভেজে, শীতে শিশু কাঁপে, অসুস্থ হলে হাসপাতালে জায়গা নেই। আমাদের মেয়েরা যেন স্কুলে যেতে পারে, যেন ছোটবেলায় কাজ করতে না হয়।’
সম্মেলনে গৃহীত ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরি, জমির মালিকানা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটাধিকার, সংবিধানে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা, শিশু শ্রম রোধ, বাসস্থান উন্নয়ন, চাকরির স্থায়ীকরণ এবং শ্রমিক সংগঠনের সাংগঠনিক স্বীকৃতি।
পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি (২০২৫)
সভাপতি
সবুজ তাঁতি
- সহ-সভাপতি
সন্ধ্যা রানী ভৌমিক - কিরণ বাউরি
- বর্মা মৃধা
- বিলাস ব্যানার্জি
- অশোক কুমার গোয়ালা
- সুমন ঘোষ
সাধারণ সম্পাদক
কৃষ্ণদাস অলমিক
সহ-সাধারণ সম্পাদক
- অনিমা অলমিক
- বিশ্বজিত দাস
- মোহন মাহালী
- রীতা মৃধা
- বিমল বাকতি
সাংগঠনিক সম্পাদক
সুমন মুন্ডা (লালচান্দ চা-বাগান, হবিগঞ্জ)
কোষাধ্যক্ষ
কার্তিক নাইডু (কালিটি চা-বাগান)
দপ্তর সম্পাদক
দীপ্ত নায়েক (খাদিম চা-বাগান)
আইন ও দর কষাকষি বিষয়ক সম্পাদক
এডভোকেট মুহাম্মদ ফজলুর রহমান শিপু
প্রচার, প্রকাশনা ও গবেষণা সম্পাদক
রিংকু ভৌমিক (লালচান্দ চা-বাগান, হবিগঞ্জ)
সাংস্কৃতিক সম্পাদক
অনিমা বসাক (খাদিম চা-বাগান)
সমাজকল্যাণ ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক
মমিন মিয়া
ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক
গৌতম রায় সাহিত্য (লালচান্দ চা-বাগান, হবিগঞ্জ)
ক্রীড়া সম্পাদক
বকুল ভৌমিক (লালচান্দ চা-বাগান)
আন্তর্জাতিক সম্পাদক
মিখা পিরেগু
প্রধান সমন্বয়ক
এস এম শুভ
সমন্বয়কবৃন্দ
- মিখা পিরেগু
- মনীষা ওয়াহিদ
- প্রণব কুমার দেব
- জিতেন ভৌমিক
উপদেষ্টা পরিষদ
- আবদুল্লাহ কাফি রতন
- সৈয়দ ফরহাদ হোসেন
- খন্দকার লুতফুর রহমান
- পীযুষ চক্রবর্তী
- নীলিমেস ঘোষ বলু
- আনোয়ার হোসেন সুমন
- খায়রুল হাছান
- মাসুক মিয়া
- বকুল
- সোহাগ ছত্রী
সদস্য (বাগানভিত্তিক)
- গোপাল (রাজনগর চা-বাগান)
- সুশীতল গোয়ালা (ইন্দেশ্বর চা-বাগান)
- ওম প্রকাশ বাউরি (লালচান্দ চা-বাগান)
- রাজেশ ভূইয়া (সোনাছড়া চা-বাগান)
- রিংকু গোয়ালা (লালাখাল চা-বাগান)
- প্রদীপ (গাজিপুর চা-বাগান)
- রিন্টু গোয়ালা (লালখাল চা-বাগান, সিলেট)
- জয়কৃষ্ণ (মুরইছড়া চা-বাগান)
- ঠাকুর (বোরহাননগর চা-বাগান)
- রতন ওরাং (আজগরাবাদ চা-বাগান)
- সত্যজিৎ ওরাং (মুরইছড়া চা-বাগান)
- রঞ্জিত মৃধা (ডালুছড়া চা-বাগান)
- অমিত নায়েক (খাদিম চা-বাগান)
- কমলা ভূইয়া (আলীনগর চা-বাগান)
- মিঠুন ওরাং (মিরতিংগা চা-বাগান)
- সজীব চন্দ্র দাস (তারাপাশা চা-বাগান)
সংগঠকবৃন্দ
- সুমন রবিদাস (আলীনগর চা-বাগান)
- রূপালী তাঁতী (খাদিম চা-বাগান)
- সরোজ তন্তুবায় (চন্ডি চা-বাগান)
- সাগর মাঝি (বেগমখান চা-বাগান)
- আপন ওরাং (দেউরাছড়া চা-বাগান)
- নিপু ভৌমিক (লালচান্দ চা-বাগান)
- কাজল তাঁতী (খাদিম চা-বাগান)
- ভারতী বাউরী (ডালুছড়া চা-বাগান)
- রিপন রায় (আলীবাহার চা-বাগান)
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘এই প্রথম চা-শ্রমিকরা নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য একত্রিত হলেন এবং পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব গঠন করলেন।’ তারা জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে চা-শ্রমিকদের দাবি দলীয় ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জাতীয়ভাবে প্রচারাভিযান চালানো হবে।
জেসি/এনআর/এমএইচএস

