বাংলাদেশের পত্রিকা থেকে
বাংলায় অবহেলা উপেক্ষা
বাংলাদেশের খবর
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৩:২৮
সর্বত্র বাংলার ব্যবহার নেই
বাংলাদেশের খবরে লিড করা হয়েছে, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহ মহান শহীদ দিবস আজ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসও। আজ বাঙালির হৃদয় যেমন স্বজন হারানোর বেদনায় হাহাকার করে, তেমনি অধিকার আদায়ের আনন্দেও উদ্বেলিত হয়।
একুশে ফেব্রুয়ারি শোকাবহ হলেও এর গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় পৃথিবীর বুকে অনন্য। কারণ বিশ্বে এযাবৎকালে একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে।
ইতিহাসের পাতায় রক্ত পলাশ হয়ে ফোটা সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর, আউয়াল, অহিউল্লাহর রক্তে রাঙানো ৭৩ বছর পার হতে চললেও এখনো সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার হচ্ছে না। এমনকি সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার সংক্রান্ত আইনটি ৩৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেলেও দেশের সর্বোচ্চ আদালতেই মানা হচ্ছে না এ আইনটি। আইনটির বাস্তবায়ন নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া একটি রুল ঝুলে আছে।
১৯৮৭ সালে সংসদে পাস হয় বাংলা ভাষা আইন। ওই বছরের ৮ মার্চ প্রণয়ন করা হয় 'বাংলা ভাষা প্রচলন আইন'। এতে বলা হয়, এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান-বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যতীত অন্য সবক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্য আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে। এই আইনে আরও বলা হয়, কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন, তাহলে সেটি বেআইনি ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে। শুধু তাই নয়, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি এই আইন অমান্য করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে
ভাষা গবেষণায় অর্জন নেই
প্রথম আলো লিড করেছে, বাংলাদেশের ৪১টি ভাষার মধ্যে বিপদাপন্ন মাত্র ৩টি ভাষা সংরক্ষণের কাজ শুরু করতে পেরেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। যদিও কাজটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিপন্নপ্রায় এই তিন ভাষা হচ্ছে রেংমিটচ্য, কন্দ ও পাত্র (লালেংথার)। এর কোনো একটি ভাষায় মাত্র দুজন কথা বলেন, কোনো ভাষায় ছয়জন। এই ভাষাগুলো যে বিপন্ন, তা জানা গিয়েছিল ২০১৬ সালে ভাষা সমীক্ষা শেষে। অথচ তা নিয়ে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিতেই চলে গেছে সাত বছর। এর মধ্যে ভাষাগুলো আরও বিপন্ন হয়েছে। কমে গেছে সে ভাষায় কথা বলা মানুষের সংখ্যাও।
১৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই তিন বিপন্ন ভাষার শব্দ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এবার ডিজিটাইজেশনের কাজ শুরু হবে। দেশের বিপন্ন অন্যান্য ভাষার মধ্যে আছে খাড়িয়া, কোডা, সৌরা, মুন্ডারি, খুমি, পাংখোয়ার মতো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর আরও ১৪টি ভাষা। ভাষাগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না গেলে চিরতরে মুছে যাবে। এসব ভাষার লিপি উদ্ধার, লিপি না থাকলে নতুন লিপি প্রণয়ন এবং সংরক্ষণের দায়িত্ব মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের। এ ভাষা ব্যবহারকারীরা যাতে ভাষাটি ব্যবহার করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও তাদের করার কথা।
ভাষা নিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের দেশব্যাপী ক্ষেত্রসমীক্ষার কাজ শেষ হওয়ার পর গত আট বছরে তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে মাত্র একটি। তা–ও তা জনসাধারণের হাতের নাগালে পৌঁছায়নি। বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে ক্ষেত্রসমীক্ষার কাজ নিয়ে প্রকাশের কথা ছিল মোট ২০টি খণ্ড। সে গবেষণায় জানা গিয়েছিল বাংলাদেশের ৪১টি ভাষার মধ্যে ১৬টির নিজস্ব লিপি রয়েছে। বাকি ২৫টি ভাষা লিপিহীন।
মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের আরেক দায়িত্ব লিপিহীন ভাষাগুলোর জন্য লিপি প্রবর্তন করা। এ ব্যাপারে এখনো কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। দেশের বিপন্ন ভাষা, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে কাজে গতি না থাকলেও শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি ছয়টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় ভাষান্তর করে গত বছর প্রকাশ করেছে মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট।
বাংলায় অবহেলা উপেক্ষা
বাংলাদেশ প্রতিদিন লিড করেছে, ইংরেজির দাপট ও প্রচলনের জন্য প্রায় সব ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রভাষা বাংলা এখন উপেক্ষিত। সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, আদালত, প্রচার-সম্প্রচার মাধ্যম থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলার ব্যবহার এখনো অবহেলিত। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে- বাংলা ভাষা হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেলেও এর প্রচার ও প্রসার এখনো পিছিয়ে আছে।
তরুণ প্রজন্ম এখন ইংরেজি-বাংলার মিশ্রণে অদ্ভুত এক ভাষা ব্যবহার করছে। এ অবস্থায় বাংলা ভাষার প্রসারে এবং এর বিকৃতি ঠেকাতে বিশেষজ্ঞরা উচ্চশিক্ষা, আদালত এবং দাপ্তরিক কাজে বাংলাকে প্রধান মাধ্যম করার জন্য অবিলম্বে একাধিক কমিটি গঠন করে উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন।
ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণে নেই যথাযথ উদ্যোগ
যুগান্তর লিড করেছে, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আজ। রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহ মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলা মায়ের বীর সন্তানেরা মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার্থে ১৯৫২ সালের এই দিনে বুকের রক্তে রঞ্জিত করেছিলেন ঢাকার রাজপথ। পৃথিবীর ইতিহাসে সৃষ্টি হয়েছিল মাতৃভাষার জন্য আত্মদানের অভূতপূর্ব নজির। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই রচিত হয়েছিল স্বাধীনতার সোপান। পৃথিবীতে একমাত্র বাঙালি জাতি ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বুকের রক্ত দিয়েছে। কিন্তু ৭৩ বছর পরে এসে প্রশ্ন উঠছে-গৌরবমময় সেই ইতিহাস আমরা কতটা সংরক্ষণ করতে পেরেছি। কিংবা এখনো করতে পারছি।
সাত দশকেরও বেশি সময় পার হলেও ভাষাসংগ্রামী বা ভাষাসৈনিকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হয়নি। একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ভাষাশহিদদের চূড়ান্ত তালিকা দেখতে পায়নি জাতি। কারা আমাদের গৌরবের এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন-‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। সেইসব বীরদের পরিচয় পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সম্পূর্ণরূপে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি দীর্ঘদিনেও। শুধু তাই নয়, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও স্থাপনাগুলোও হারাতে বসেছে। চিহ্নিত বা সংরক্ষণ করা যায়নি সব ভাষাশহিদের কবর। রাজধানীসহ সারা দেশে এ ধরনের স্মৃতি নিদর্শনগুলোর সংখ্যাও সীমিত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতিহাস ও চেতনার অভাব এবং সংরক্ষণে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে চোখের সামনে সেগুলোও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ইউনিকোডে সমৃদ্ধ হচ্ছে বাংলা ভাষা, বিপ্লব এনেছে অভ্র
আমার দেশ লিড করেছে, এখন থেকে তিন দশক আগে বাংলা ভাষা অনলাইন মাধ্যমে পাঠ খুবই দুষ্কর ছিল। এমনকি অফলাইনে একটি ডিভাইসে লেখা বাংলা ভাষা অন্য ডিভাইসে গেলে ফন্ট ভেঙে যেত। নানা জটিল প্রক্রিয়ার বিকল্প পদ্ধতিতে বাংলাকে ইন্টারনেটে পাঠ উপযোগী করতে হতো।
নব্বইয়ের দশকের দিকে বাংলাভাষা ইউনিকোড মান ব্যবহারের পর সহজবোধ্য হয়। পরে ইন্টারনেটে বাংলা হরফে লেখার ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে অভ্র সফটওয়্যার। তিন তরুণের হাত ধরে এই উদ্যোগ বাংলা ভাষাকে অনলাইন জগতে যুক্ত করেছে।

অবশ্য অভ্র ছাড়াও অন্যান্য সফটওয়ারে বাংলা ইউনিকোড প্রচলিত রয়েছে। তবে, ‘ভাষা হোক উন্মুক্ত’ স্লোগানে বিনামূল্যে সফটওয়্যারটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করছে অভ্র। অভ্রর কি-বোর্ড তৈরির কারিগর মেহদী হাসান খানসহ তার তিন বন্ধু। অন্যরা হলেন রিফাত নবী, তানবিন ইসলাম সিয়াম ও শাবাব মুস্তাফা।
বাংলা ইউনিকোড কি-বোর্ড বিনামূল্যে সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীদের সরবরাহের জন্য এবার স্বীকৃতি পেয়েছেন মেহেদী হাসানসহ তার বন্ধুরা। অন্তর্বর্তী সরকার তাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে একুশে দিয়েছে। গতকাল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূস তাদেরসহ অন্যদের একুশে পদক দেন।
গ্যাস-বিদ্যুতে ভয়াবহ ভোগান্তির আশঙ্কা
সমকাল লিড করেছে, শীত শেষে ফাল্গুনের শুরুতেই পড়ছে হালকা গরম। রাতে চালাতে হচ্ছে ফ্যান। এতেই শুরু হয়েছে লোডশেডিং। মার্চে রমজান, সঙ্গে বাড়বে গরমও। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে সেচ মৌসুম। সব মিলিয়ে মার্চ-এপ্রিল থেকে বিদ্যুতের চাহিদা দেড় গুণ হবে। খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হবে বিদ্যুৎ বিভাগকে। অর্থ সংকটে চাহিদা অনুসারে জ্বালানি সরবরাহ সম্ভব হবে না।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবার গরমে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি থাকবে বিদ্যুতের। যদিও বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, লোডশেডিং হবে দেড় হাজার মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে এবার ভয়াবহ লোডশেডিং ও ভোগান্তির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে রমজানে ও সেচ মৌসুমে সংকট ঠেকিয়ে রাখা যাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর গ্রীষ্মকালে ১৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়াবে।

কিন্তু এখন খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া বিদ্যুতের বকেয়া বিলের পরিমাণ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে খুব বেশি কমেনি। বিল না পাওয়ায় বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা প্রাথমিক জ্বালানি ফার্নেস অয়েল ও কয়লা আমদানিতে হোঁচট খাচ্ছে। অর্থ সংকটে রয়েছে গ্যাস খাতও। বকেয়া ও ডলার সংকটে এলএনজি আমদানি ব্যাহত হতে পারে। দেশীয় উৎস থেকেও গ্যাসের জোগান কমছে। ফলে এবার গরমে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
সিরিজ বৈঠক, নেতৃত্ব নিয়ে সমঝোতা
মানবজমিন লিড করেছে, ঐকমত্যের ভিত্তিতেই আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ছাত্র-নাগরিকের নতুন দল। শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে জটিলতা কাটলেও অন্দরে দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে। আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সমাবেশ করে নতুন দলের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে। এ উপলক্ষে বড় জমায়েত ঘটাতে চায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। জাতীয় নাগরিক কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতেই নতুন দল আসবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এ জন্য আন্দোলনের সব পক্ষের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পদ-পদবি নিয়ে ইতিমধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
নতুন দলের কমিটির কাঠামোয় শীর্ষ চারটি পদ- আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, মুখ্য সংগঠক ও মুখপাত্র। তবে এর সঙ্গে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব পদ দুটি সৃষ্টি হতে পারে। বিরোধ মিটাতেই এ পদ দুটি সৃষ্টি করা হচ্ছে। শীর্ষ এসব পদে আলোচনায় আছেন- নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আলী আহসান জুনায়েদ ও নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। এ ছাড়াও নারী ও সংখ্যালঘু কোটায় সামান্তা শারমিন ও অনিক রায়ও পেতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ পদ। কমিটিতে আহ্বায়ক পদে সর্বসম্মতিক্রমে নাহিদ ইসলামের নাম চূড়ান্ত। তিনি সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে নতুন দলের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তার ব্যাপারে ঐকমত্য থাকলেও সদস্য সচিব পদে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে ছাত্র-আন্দোলনের নেতারা। তিনটি ধারা হলো- নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন অনুসারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি আলী আহসান জুনায়েদ অনুসারী আর নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী অনুসারী। তিন পক্ষই নিজ নিজ নেতাকে সদস্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে চাইলে বিরোধ সৃষ্টি হয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের অন্দরে। এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করে সমঝোতার চেষ্টা চালানো হয়। মূলত আখতারপন্থি ও জুনায়েদপন্থিরা প্রকাশ্যে বিরোধে জড়ান। আখতারের অনুসারীদের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির সাবেক নেতাকর্মী।
আর জুনায়েদ অনুসারীদের মধ্যে শিবিরের সাবেক কর্মীদের প্রভাব রয়েছে। অন্যদিকে নাসীরের অনুসারীরা মূলত উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের অনুসারী। এ ছাড়া বামপন্থি একটি অংশ রয়েছে। তারা এ পদে নাসীরকে বসাতে চান। আখতার ও জুনায়েদ অনুসারীদের মধ্যে চলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথার লড়াই। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছে ছাত্র-নাগরিকের প্ল্যাটফরম জাতীয় নাগরিক কমিটির অন্দরে। দফায় দফায় বৈঠকে বসেন সব পক্ষ। ঐক্যে যখন ফাটলের সুর তখন নতুন করে সমঝোতা হয়েছে ছাত্র-আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে।
এর আগে বিরোধ মেটাতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব পদ দুটিতে জুনায়েদ অনুসারীদের দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু শুরুতে তাতে সায় দেয়নি তারা। তাদের দাবি শীর্ষ চারটি পদের অন্তত একটি তাদের দিতে হবে। গতকাল বিকালেও এ বিষয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয় নাগরিক কমিটির মধ্যে। সেখানে সমঝোতা হয়েছে- ঐক্যবদ্ধভাবে দল গঠনের ব্যাপারে। তবে এদিনের বৈঠকে জুনায়েদের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। গতকাল নাগরিক কমিটির দুই যুগ্ম সদস্য সচিব মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী ২৬ই ফেব্রুয়ারি মানিক মিয়া এভিনিউর সামনে থেকে আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে নতুন দলের। এদিকে নতুন দলের আত্মপ্রকাশকে কেন্দ্র করে তিনটি উপকমিটি গঠন করেছে নাগরিক কমিটি।
ড্রিমলাইনারের যান্ত্রিক ত্রুটিতে ভুগছে বাংলাদেশ বিমান
বণিক বার্তা লিড করেছে, মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা সংস্থা বোয়িংয়ের ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের উড়োজাহাজ পরিচালনা করতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে সমস্যায় পড়ছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস। মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা সংস্থা বোয়িংয়ের ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের উড়োজাহাজ পরিচালনা করতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে সমস্যায় পড়ছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস। আকাশে থাকা অবস্থায় হঠাৎ উচ্চতা পড়ে যাওয়া, উইন্ডশিল্ডে ফাটলসহ নানা ধরনের কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ছে প্রায়ই। এ মডেলের উড়োজাহাজে বড় ধরনের নির্মাণ ত্রুটির অভিযোগ এখন বৈশ্বিক আকাশ পরিবহন খাতের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আকাশ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরেও রয়েছে ছয়টি ড্রিমলাইনার। এসব উড়োজাহাজে বিভিন্ন সময় দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের কারিগরি ত্রুটি। ২০২৪ সালে বিমানের বহরে থাকা ড্রিমলাইনার দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার সময় উইন্ডশিল্ডে ফাটলের দুটি ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া অন্তত দুই দফায় কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে, যার জন্য ফ্লাইটে বিলম্ব, এমনকি যাত্রা বাতিলও হয়েছে।
বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনার বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা করে ২০১১ সালের ২৬ অক্টোবর। এর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময় এ মডেলের উড়োজাহাজে নানা যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা সামনে এসেছে। ড্রিমলাইনারের নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের আলোচনা তৈরি করে গত বছরের এপ্রিলে। বোয়িংয়ের সাবেক কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ার স্যাম সালেহপৌর ওই সময় দাবি করেন, খরচ বাঁচাতে ৭৮৭ সিরিজের উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ছাড় দিয়েছে বোয়িং।
দারিদ্র্যেও মরে যাচ্ছে ভাষা
কালের কণ্ঠ লিড করেছে, ‘তিন পুরুষ ধরে খুঁজলেও আমাদের ভাষা খুঁজে পাবেন না। পূর্বপুরুষরা কী ভাষায় কথা বলত, আমরা জানি না। আমাদের যে আর্থিক অবস্থা তাতে খাবারের পেছনে ছুটব, না ভাষার পেছনে ছুটব? সমাজে আমাদের আলাদাভাবে দেখা হয়। ফলে নিজেদের পরিচয়ও লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করি।

ভাষাও বিলুপ্ত, তাই আমরা এখন বাংলায় কথা বলি।’ কালের কণ্ঠকে কথাগুলো বলছিলেন শেরপুরের হুদি নৃগোষ্ঠীর তাপস বিশ্বাস। তিনি শেরপুরভিত্তিক একটি উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক, যারা ওই অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করে। নিজের পূর্বপুরুষদের ভাষা হারিয়ে ফেলার আক্ষেপ, যন্ত্রণা ও হাহাকার ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়।
এনআর/এটিআর

