Logo

অর্থনীতি

দুদকের এক মামলায় ‘দুই নীতি’ : এক্সিম ব্যাংকের সাবেক সিইও গ্রেপ্তার, ডিএমডির ‘কিছুই হয়নি’

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ২২:০৪

দুদকের এক মামলায় ‘দুই নীতি’ : এক্সিম ব্যাংকের সাবেক সিইও গ্রেপ্তার, ডিএমডির ‘কিছুই হয়নি’

এক্সিম ব্যাংকের ডিএমডি মাকসুদা খানম (ইনসার্টে)

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি জালিয়াতি ও ৮৫৭ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় এক্সিম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মাকসুদা খানমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি এখনো স্বপদে বহাল আছেন এবং নিয়মিত অফিস করছেন। গত ২০ নভেম্বর দুদকে তার হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি যাননি। একই মামলার প্রধান আসামি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে একই মামলায় দুই আসামিকে ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ব্যাংকিং মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান মিরাজ বলেন, ‘তদন্তের প্রয়োজনে তাদের ডাকা হয়েছিল। যারা আসেননি, তাদের আবার তলব করা হবে। দ্বিতীয়বারও হাজির না হলে তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হারাবেন।’

মাকসুদা খানমকে ঘিরে এর মধ্যেই নতুন করে অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। তাদের দাবি, এই প্রভাবেই নজরুল–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি নামে–বেনামে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছেন। গুলশান শাখার ব্যবস্থাপক থাকাকালে এসব ঋণ অনুমোদনে মাকসুদার ভূমিকা ছিল বলেও অভিযোগ।

এই অভিযোগে নাসা গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তা সাইফুল ও রঞ্জনের নামও আসে। বগুড়ার সাবেক এমপি রফিকসহ কয়েকজন বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছেন বলেও কিছু কর্মকর্তা দাবি করেন। নজরুলের মেয়ের জামাই ও তার মেয়ের নামেও ঋণ অনুমোদন মিলেছে বলে তাদের বক্তব্য।

সবচেয়ে আলোচনায় থাকা ঋণটি রাওয়া ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) আফসারের নামে অনুমোদিত প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার। তিনি দুই বছর হলো মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পর পরিবার জানায়, তিনি কখনো এ ধরনের ঋণ নিয়েছেন— এ তথ্য তাদের জানা ছিল না। এতে এই ঋণের পেছনে কার সুবিধা ছিল— সে প্রশ্ন নতুন করে উঠেছে।

মাকসুদা ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি এক্সিম ব্যাংকের ডিএমডি পদে পদোন্নতি পান। তার আগে তিনি গুলশান শাখার ব্যবস্থাপক, আঞ্চলিক প্রধানসহ বেশ কয়েকটি দায়িত্বে ছিলেন। ব্যাংকের অভ্যন্তরে কিছু কর্মকর্তার মত, তার এই দ্রুত পদোন্নতিতে ব্যক্তিগত প্রভাবের ভূমিকা ছিল।

মাকসুদা ‘উপহার’ হিসেবে গুলশানে একটি ফ্ল্যাট পেয়েছেন অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে মাকসুদা বলেন, ‘এই লোনগুলো চারটি শাখা থেকে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে গুলশান শাখায় আমি দায়িত্বে ছিলাম। আর এই মামলার আসামিরা সবাই তো অফিস করছে।’ তিনি ফ্ল্যাট পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

দুদক জানিয়েছে, দ্বিতীয়বার তলবের পরও হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে একই মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার ও আরেকজনের নিয়মিত দায়িত্ব পালন— এ বৈষম্য ঘিরে ব্যাংকিং মহলে আলোচনা বাড়ছে।

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

দুর্নীতি দমন কমিশন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর