রোজা রেখে সাপোজিটরি ব্যবহার করা যাবে কি, কী বলছেন আলেমরা
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩২
ছবি: সংগৃহীত
রমজান মাসে রোজা রাখা অবস্থায় তীব্র জ্বর বা অসুস্থতা দেখা দিলে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন জাগে-জ্বর কমাতে মলদ্বারে সাপোজিটরি ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে কি না। এ বিষয়ে ইসলামি ফিকহবিদ ও আলেমদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া যায়।
আলেমদের একটি অংশের মতে, রোজা ভাঙার অন্যতম কারণ হলো স্বাভাবিক প্রবেশপথ দিয়ে শরীরের ভেতরে কোনো কিছু প্রবেশ করানো। তাঁদের ব্যাখ্যায়, মলদ্বারও স্বাভাবিক প্রবেশপথের অন্তর্ভুক্ত। ফলে এ পথে ওষুধ বা সাপোজিটরি প্রবেশ করানো হলে রোজা ভেঙে যাবে। এ ক্ষেত্রে ঐ দিনের রোজা কাজা আদায় করতে হবে, তবে কাফফারা আদায় করা জরুরি নয়।
(খিজানাতুল আকমাল ১/২৯৯, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৩, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৭৮, বায়হাকি ৮৫১২, ফাতহুল বারি, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-২০৭, হেদায়া, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২২০)
অন্যদিকে, অনেক আলেমের মতে, ডুশ বা সাপোজিটরি ব্যবহারের পর তা পুনরায় পায়ুপথ দিয়ে বের হয়ে আসে এবং এর মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণের কোনো উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। সে কারণে সাপোজিটরি ব্যবহারে রোজা ভাঙে না। তবে সতর্কতার জন্য পরবর্তী সময়ে রোজা কাজা করে নেওয়াকে উত্তম বলা হয়েছে।
(আল ফিকহুল ইসলামি আদ দুওয়ালি)
আবার আরেকটি মতামতে বলা হয়, রমজানের দিনের বেলায় সাপোজিটরি ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। একইভাবে রোজাদারকে প্রয়োজনে ডুশ দেওয়া হলেও তা রোজা ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ, এগুলো পানাহার নয় এবং পানাহারের বিকল্প হিসেবেও বিবেচ্য নয়। তাছাড়া সাপোজিটরি বা ডুশ রোজা ভঙ্গকারী—এমন কোনো সুস্পষ্ট দলিলও পাওয়া যায় না।
এ প্রসঙ্গে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া তাঁর গ্রন্থ আল-ইখতিয়ারাত-এ (পৃষ্ঠা-১৯৩) উল্লেখ করেন, সুরমা লাগানো কিংবা ইনজেকশন (ডুশের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত) রোজা ভঙ্গ করে না। এটি কিছু আলেমের গ্রহণযোগ্য মতামত।
শাইখ মুহাম্মদ ইবনে উছাইমীন (রহ.) তাঁর গ্রন্থ আল-শারহুল মুমতি–তে (৬/৩৮১) বলেন, এ বিষয়ে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার অভিমতই অগ্রগণ্য। অর্থাৎ, ডুশ বা সাপোজিটরি ব্যবহার রোজা ভঙ্গকারী নয়।

