Logo

লাইফস্টাইল

টুয়েলভের পূজার সাজে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:০১

অ
টুয়েলভের পূজার সাজে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন

ছবি: সংগৃহীত

দুর্গাপূজা বাঙালির কাছে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি একই সঙ্গে আনন্দ, মিলন ও নিজেকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার ঋতু। শরতের উৎসবকে ঘিরে পোশাকেও তাই থাকে আলাদা প্রস্তুতি। সেই উৎসবের আবহ, ঐতিহ্য ও সমকালীন রুচিকে একসঙ্গে ধারণ করে এবারের দুর্গাপূজার আয়োজন সাজিয়েছে দেশের ফ্যাশন ব্র্যান্ড টুয়েলভ ক্লদিং।

তাদের ২০২৬ সালের পূজা সংগ্রহে উঠে এসেছে দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী কোলাম ও শান্তিনিকেতনের আলপনার নকশা। পোশাকের ধরন, নকশার বৈচিত্র্য এবং বয়সভেদে সাজের সুযোগ— সব মিলিয়ে সংগ্রহটি তৈরি হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ পারিবারিক উৎসবের পোশাক ভাবনা সামনে রেখে। 

এই সংগ্রহের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নকশার ভাবনায়। কোলাম দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন আঙ্গিনা-সজ্জার একটি শিল্পরীতি। চালের গুঁড়া দিয়ে আঁকা এই নকশায় থাকে জ্যামিতিক সাম্য, বিন্দুকে ঘিরে অবিচ্ছিন্ন রেখার চলন এবং শুভ প্রতীকের ব্যবহার। টুয়েলভ ক্লদিং সেই ঐতিহ্যকে পোশাকে এনেছে পরিমিত ও আধুনিক বিন্যাসে। কুর্তির বুকের মাঝামাঝি অংশ, গলার কাছের নকশা কিংবা উপরের অংশে গোলাকার অলংকরণে কোলামের ছাপ দেখা যায়। সালোয়ার-কামিজে আবার নকশাটি ব্যবহৃত হয়েছে পোশাকের নিচের প্রান্ত ও ওড়নার বিস্তৃত অংশে। পুরুষদের পাঞ্জাবিতেও বুকের পকেট, গলা ও হাতার প্রান্তে জ্যামিতিক রেখার ব্যবহার রাখা হয়েছে। 

অন্যদিকে শান্তিনিকেতনের আলপনা থেকে নেওয়া নকশাগুলো সংগ্রহে এনেছে আরও চেনা বাঙালি আবহ। পদ্মফুল, লতাপাতা, বাঁকানো পল্লব ও জ্যামিতিক মেঝে-আলপনার অনুপ্রেরণায় তৈরি এসব নকশা কখনও গলার চারপাশে, কখনও পোশাকের বুকের অংশে, আবার কখনও হাতার প্রান্তে ব্যবহার করা হয়েছে। সালোয়ার-কামিজে নিচের অংশ ও ওড়নায় বিস্তৃত নকশা যেমন রয়েছে, তেমনি পুরুষদের পাঞ্জাবিতে রাখা হয়েছে তুলনামূলক সংযত আলপনার ছোঁয়া। ফলে ঐতিহ্যবাহী নকশা থাকলেও পোশাকগুলোকে অতিরিক্ত ভারী করে তোলা হয়নি। 

পোশাকের ধরনেও রয়েছে যথেষ্ট বৈচিত্র্য। নারীদের জন্য তিন খণ্ডের সালোয়ার-কামিজ, দুই খণ্ডের পোশাক, কুর্তি ও গাউনধর্মী পোশাক যেমন দেখা যায়, তেমনি রয়েছে দীর্ঘ কুর্তা ও বিভিন্ন কাটের উৎসবের পোশাক। কিছু নকশায় উজ্জ্বল লাল, কমলা, গোলাপি ও গাঢ় রঙের ব্যবহার উৎসবের আবহকে আরও স্পষ্ট করেছে। আবার ধূসর, মাটি, হালকা সবুজ, সাদা ও বাদামি ধরনের অপেক্ষাকৃত শান্ত রঙের পোশাকও রয়েছে— যা পুজোর দিনের সকাল কিংবা পারিবারিক আয়োজনে সহজ-স্নিগ্ধ সাজের জন্য মানানসই। সংগ্রহের নকশা ও রঙের এই বৈচিত্র্য বিভিন্ন বয়সের নারীর পোশাক নির্বাচনের সুযোগও বাড়িয়েছে।

কিশোরী ও তরুণীদের জন্য সংগ্রহে রয়েছে তুলনামূলক প্রাণবন্ত রঙ, ছন্দময় নকশা এবং চলাফেরায় স্বাচ্ছন্দ্য রাখার মতো পোশাক। কুর্তি, দুই খণ্ডের পোশাক কিংবা হালকা গড়নের সালোয়ার-কামিজ তাদের উৎসবের দিনগুলোতে সাজকে যেমন আকর্ষণীয় করবে, তেমনি দীর্ঘ সময় পরার ক্ষেত্রেও স্বস্তি দেবে। তরুণীদের জন্য ঐতিহ্যবাহী নকশাকে আধুনিক পোশাকের কাটের সঙ্গে মেলানোর প্রবণতাটি বিশেষভাবে চোখে পড়ে।

প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের কথা মাথায় রেখেও রয়েছে বেশ কিছু পরিমিত ও মার্জিত নকশা। দীর্ঘ কুর্তা, তিন খণ্ডের সালোয়ার-কামিজ এবং গাউনধর্মী পোশাকে আলপনা ও কোলামের রেখা ব্যবহার করা হয়েছে তুলনামূলক সংযতভাবে। ফলে উৎসবের আভিজাত্য বজায় রেখেও পোশাকগুলো দৈনন্দিন স্বাচ্ছন্দ্যের কাছাকাছি থাকে।

পুরুষদের জন্য সংগ্রহে রয়েছে পাঞ্জাবির একাধিক ধরন। কোথাও গোলগলার ছোট পাঞ্জাবির সঙ্গে ধুতি, কোথাও দীর্ঘ পাঞ্জাবিতে নকশার সূক্ষ্ম ব্যবহার। গাঢ় লাল, মেরুন, নীল, সাদা, বাদামি, হলুদ ও মাটিরঙা পোশাকের পাশাপাশি হালকা রঙের পাঞ্জাবিও রয়েছে। বয়সে তরুণদের জন্য অপেক্ষাকৃত উজ্জ্বল ও নকশাদার পোশাক যেমন মানানসই, তেমনি মধ্যবয়সী ও বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য রয়েছে সংযত রঙ ও সরল নকশার বিকল্প। 

শিশুদের জন্যও পারিবারিক সাজের ভাবনাটি আলাদা করে ফুটে উঠেছে। সংগ্রহের শেষাংশে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে উৎসবের পোশাকে দেখানো হয়েছে— যেখানে বয়সভেদে পোশাকের ধরন আলাদা হলেও নকশা ও রঙের মধ্যে রয়েছে সামঞ্জস্য। অর্থাৎ বাবা-মা, সন্তান কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যরা চাইলে আলাদা পোশাক পরেও সামগ্রিক সাজে একটি ঐক্য তৈরি করতে পারবেন।

পোশাকের উপাদান হিসেবে নির্দিষ্ট কাপড়ের নাম সংগ্রহপত্রে আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। তবে সেখানে উৎসবের দীর্ঘ সময়ের চলাফেরার কথা বিবেচনা করে আরামদায়ক কাট ও বাতাস চলাচল করতে পারে এমন কাপড় ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি গলার অংশ, বুকের উপরের অংশ, হাতার প্রান্ত ও পোশাকের নিচের দিকে কারুশিল্পনির্ভর নকশাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

সব মিলিয়ে টুয়েলভ ক্লদিংয়ের এবারের দুর্গাপূজা সংগ্রহের মূল আকর্ষণ ঐতিহ্যের পুনর্বিন্যাস। দক্ষিণ ভারতের কোলামের জ্যামিতিক সৌন্দর্য এবং বাংলার আলপনার স্বাভাবিক রেখাকে একসঙ্গে এনে তারা এমন একটি পোশাকভুবন তৈরি করেছে, যেখানে বয়সের সীমারেখা নেই। কিশোরী থেকে তরুণী, প্রাপ্তবয়স্ক নারী থেকে পুরুষ, এমনকি পরিবারের ছোট সদস্য— উৎসবের সাজে সবাইকে যুক্ত করার এই ভাবনাই এবারের আয়োজনকে পারিবারিক উৎসবের পোশাক সংগ্রহ হিসেবে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। শরতের দুর্গোৎসবে তাই ঐতিহ্যের পরিচিত রেখা আর সমকালীন স্বাচ্ছন্দ্য— দুইয়ের সমন্বয়ে সাজতে চাইলে এই সংগ্রহ হয়ে উঠতে পারে নতুন এক নান্দনিক অনুষঙ্গ।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন