নারী কমিশনের সুপারিশ ‘ধর্ম বনাম নারী’ মুখোমুখি দাঁড় করেছে : এনসিপি
নারীর প্রতি অমর্যাদাকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৫, ২০:১০
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের কিছু সুপারিশ দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে দ্বান্দ্বিক অবস্থান তৈরি করে নারী ও ধর্মকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (৫ মে) এক সংবাদ বার্তায় দলটি এ মত জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে গঠিত ১১টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর গঠিত হয় এবং ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল প্রস্তাবনা পেশ করে। তবে এই কমিশন ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’-এর আওতায় না থাকায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্ব মতামত গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে কমিশনের প্রস্তাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
এনসিপি মনে করে, নারী কমিশনের সদস্যদের মধ্যে সমাজের সকল অংশের নারীদের প্রতিনিধিত্ব যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি। এছাড়া কমিশনের কিছু সুপারিশ নিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এনসিপির মতে, সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানিয়ে এবং নাগরিকদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে শ্রদ্ধা করে রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়ন করা উচিত।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেসব প্রস্তাবে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো নিয়ে সকল প্রতিনিধিত্বশীল অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন। একইসঙ্গে, সম্প্রতি বিভিন্ন সমাবেশ থেকে নারীদের উদ্দেশ্যে যে শ্লেষাত্মক ও অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, এনসিপি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এনসিপি স্মরণ করিয়ে দেয়, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নারীদের অগ্রণী অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জাতি ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে এনসিপি জানায়, তারা নারীদের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও সামাজিক সংগ্রামকে গভীরভাবে সম্মান করে এবং নারীর মর্যাদা ও অধিকার বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। দলটি নারীদের সঙ্গে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাবে বলেও জানানো হয়।
এইচকে/

