-68b26a36676c2.jpg)
- পিআর পদ্ধতির দাবি জামায়াতের
- এই রোডম্যাপ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল : এনসিপি
- রোডম্যাপ নিয়ে দলগুলোর অবস্থান ভালো কিছু বয়ে আনবে না : দিলারা চৌধুরী
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর বিভক্তিতে নির্বাচন নিয়ে নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দলগুলো এককাতারে না পৌঁছতে পারলে দেশ সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন দলগুলোর নেতারা। তবে, মৌলিক বিষয় ঠিক রেখে সবাইকে কিছু জায়গা ছাড় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিব আখতার আহমেদ ওই রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। ঘোষিত রোডম্যাপে আগামী ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগে ভোট এবং ভোটের ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রোডম্যাপ নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বিএনপি স্বাগত জানালেও সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
বিএনপি ছাড়া জামায়াত ও এনসিপিসহ ইসলামী দলগুলো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংস্কার ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনকেই জোর দিচ্ছে। দলগুলোর এর মধ্যে বিএনপি রোডম্যাপে খুশি। রোডম্যাপকে 'স্বাগত' জানিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'রোডম্যাপ ঘোষণা হয়েছে। এতে আশাবাদী হয়েছি যে নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মূল কথা হচ্ছে, আমরা খুশি, উই আর হ্যাপি।'
অন্যদিকে, পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি সামনে রেখে নির্বাচনের আরেকটা রোডম্যাপ দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ে পড়বে। ফের কারচুপির নির্বাচন করতে চাইলে ব্যালট বাক্স কেন্দ্রে নিতে দেবে না মানুষ।
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক প্রতিক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপকে গতানুগতিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'জাতির প্রত্যাশা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। এমনকি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান এবং এর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত হয়নি। এ অবস্থায় রোডম্যাপ ঘোষণা অপরিপক্ব ও আংশিক। এতে জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি।'
জুলাই সনদ চূড়ান্ত হওয়ার আগে নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল বলে উল্লেখ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বলছে, 'জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না করে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ ভবিষ্যতে সংকট তৈরি করতে পারে এবং এর দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে রোডম্যাপ প্রতিক্রিয়া জানান এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। তিনি বলেন, এ সংবিধানে ভোটের জন্যে মানুষ জীবন দেয়নি।'
নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, পুরনো বন্দোবস্তের নির্বাচনি রোডম্যাপ জুলাই অভ্যুত্থানকে অস্বীকারের নামান্তর। এই রোডম্যাপ দেশের মানুষ মানবে না। আগে সংস্কার, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করতে হবে।
অর্থাৎ দলগুলোর নেতাদের বক্তব্যে বিভক্তি স্পষ্ট। ফলে, শেষ পর্যন্ত যদি তারা কমবেশি ছাড় না দেয় তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে অনেকেই।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দৈনিক বাংলাদেশের খবরকে বলেছেন, "নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা অবশ্যই পুরো জাতির জন্য একটি সুসংবাদ। মানুষ এখন নির্বাচনমুখী হতে পারবে। নানান দাবি তুলে বিরোধিতাকারীরা নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু দেশের মানুষ ষড়যন্ত্র মানবে না।"
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় নির্বাচনে যাবে কিনা দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নেবে। সংস্কার ছাড়া নির্বাচনের জন্য মানুষ জীবন দেয়নি। নির্বাচন নিয়েই কিন্তু সংকট থেকে শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে মানুষ ক্ষমতাচ্যুত করেছে। যেনতেন নির্বাচন কেউ মানবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে না হাঁটলে সংকট অনিবার্য।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বাংলাদেশের খবরকে বলেন, 'রোডম্যাপ নিয়ে দলগুলোর যে অবস্থান দেখছি সেটি ভালো কিছু বয়ে আনবে না। কারণ একটি দল এ রোডম্যাপে ভোটে যেতে চাইলেও অন্যরা যদি সিরিয়াসলি বাধা হয়ে দাঁড়ায় তবে শেষ পর্যন্ত সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বলেন, অবশ্যই সবাইকে মৌলিক বিষয় ঠিক রেখে ছাড় দিতে হবে। সংস্কার যেমন দরকার তেমনি নির্বাচনও দরকার। দলগুলো এককাতারে পৌঁছাতে না পারলে নানা আশঙ্কার কথা বলছেন তিনি। তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতিবিদদের ১/১১'র কথা ভুলে গেলে চলবে না। তিনি বলেন, 'যারা এখন রাজনীতির মাঠে আছেন তাদের বেশির ভাগ কিন্তু ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে ছিল। সুতরাং আমি আশা করছি তারা শেষ পর্যন্ত এক জায়গায় আসবে।'
বিকেপি/এমবি