Logo

বিশেষ সংবাদ

উপসচিব পদে ২৬৮ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি, রইল বাকি দুই

Icon

তরিকুল ইসলাম সুমন

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫৫

উপসচিব পদে ২৬৮ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি, রইল বাকি দুই
  • নির্বাচন সামনে রেখে ঢেলে সাজানো হচ্ছে প্রশাসন
  • গোয়েন্দা সংস্থাসহ নানা মাধ্যমে যাচাই-বাছাই
  • বাদ যাচ্ছে ফ্যাসিস্টের দোসররা 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢেলে সাজানো হচ্ছে প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতা বিগত সরকারের সময়ে বঞ্চিত এবং পদোন্নতি না পাওয়াদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। শুরু হয়েছে প্রশাসনিক সংস্কারমূলক পদোন্নতি। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ও এর বাইরে নয়। এখানেও লেগেছে পদোন্নতির জোয়ার। প্রশাসনিক বড় পদোন্নতি আনছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত বৃহস্পতিবার উপসচিব পদে ২৬৮ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। 

আগামী মাসে (সেপ্টেম্বর) পদোন্নতি তালিকা আছে যুগ্ম সচিব এবং অতিরিক্ত সচিব। এ দুটি পদের কর্মকর্তারাই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রশাসনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপকভাবে পদোন্নতি দেওয়া শুরু করে। এখন চলছে নির্বাচনি মাঠ প্রশাসন ঢেলে সাজানোর কাজ। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে দেশবাসীকে উপহার দেওয়ার অংশ হিসেবে যোগ্য, মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিতদের দেওয়া হচ্ছে পদোন্নতি। যা তফসিল ঘোষণার আগেই শেষ করতে চায় সরকার।

জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরে যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য নিয়মিত হিসেবে বিসিএস ২০তম ব্যাচকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন এবং অন্যান্য ক্যাডার মিলিয়ে প্রায় ৩০০ কর্মকর্তাকে এ পদে পদোন্নতির জন্য ভাবা হলেও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ৪৩ জন এবং মন্ত্রীদের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে কাজ করা ৪০ কর্মকর্তাকে এবার বিবেচনায় রাখা হচ্ছে না। একই সঙ্গে, যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে অতীতে 'বঞ্চিত' বিসিএস ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। গত মার্চে পদোন্নতির তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৮২ জন কর্মকর্তার মধ্য থেকে ১০০ থেকে ১৫০ জনকে পদোন্নতি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম পর্যায়ে অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর যুগ্মসচিব পদোন্নতি চূড়ান্ত করা হতে পারে। এর মধ্যে কয়েকজনকে সচিব পদে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারির কথা রয়েছে। তবে ২০ ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা পলাতক শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে রাতের ভোটের কারিগর হিসেবে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দায়িত্বে ছিলেন, তাদের বিবেচনায় আনা হচ্ছে না। একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাদের পদোন্নতির বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) এরফানুল হক বলেন, পদোন্নতি আমাদের রুটিন কাজ। আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। তবে কত জনকে পনোন্নতি দেওয়া হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন হবে।

জানা গেছে, সচিব হিসেবে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক একটা অংশ কর্মরত রয়েছেন। অনেকে আছেন ওএসডি হিসেবে। এমন বাস্তবতায় সচিব পদে পদোন্নতির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে একাধিক ফোরামে। কিন্তু গত ১৫ বছরে কর্মকর্তাদের একটা বড় অংশ সরকারি কাজের পরিবর্তে দলীয় কর্মীর পরিচয় বেশি দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ব্যস্ত ছিলেন বিগত সরকারের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর তাদের একটা অংশকে দায়িত্ব দিতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে। সেই সময় বেশ সমালোচনায় পড়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর জেরে প্রজ্ঞাপন জারির পর কিছু কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়। অনেককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে পটপরিবর্তনের পরে অনেক সুবিধাভোগী কর্মকর্তারাও সুযোগ বুঝে নিজের বঞ্চিত দাবি করে বসেন। কেউ কেউ পদোন্নতি বাগিয়ে নেন নিজেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরোধী প্রচার করে। বাস্তবে দেখা গেছে, এদের অনেকের বিরুদ্ধে প্রকল্প, মাঠ প্রশাসন বা বিভিন্ন স্থানে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ রয়েছে। এবার সে কারণে বেশ সতর্ক সরকার। গোয়েন্দা সংস্থাসহ নানা মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে চায় সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি)।

এবার সচিব পদে পদোন্নতির জন্য প্রশাসন ক্যাডারের ১৩ ও ১৫ ব্যাচ থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন এসএসবি এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেছে। দুর্নীতির অভিযোগ, সরকারি কাজের পরিবর্তে দলীয় নেতাদের আনুগত্যের চেষ্টা, নৈতিক স্খলন এসব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারির পর বিতর্কের সুযোগ না দিতে রয়েছে বাড়তি তৎপরতা। 

সচিব পদে পদোন্নতির পাশাপাশি উপসচিবে বিসিএস (প্রশাসন) নিয়মিত ৩০ ব্যাচ, যুগ্ম সচিবের জন্য ২১, ২২ ও ২৪ ব্যাচ এবং ২০ ব্যাচের নিয়মিত কর্মকর্তারা হবেন অতিরিক্ত সচিব। যুগ্ম সচিব প্রত্যাশীদের বিষয়টি হচ্ছে- অনেকে নানা তদবিরে সর্বশেষ পদোন্নতি পেয়েছেন। বিতর্কিতরা ঠাঁই পেলেও কেউবা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও জায়গা পাননি। তাই এবার পদোন্নতি প্রত্যাশী কর্মকর্তাদের কর্মজীবন, পারিবারিক তথ্য, বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন, গোয়েন্দা তথ্য ইত্যাদি চুলচেরা পর্যালোচনা চলছে।

সূত্রমতে, বিসিএস ২০তম ব্যাচে ১৩০ জনকে অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতির বিবেচনায় আনা হতে পারে। পাশাপাশি কিছুসংখ্যক বঞ্চিত ১৭ ও ১৮ ব্যাচের কর্মকর্তাদের বিবেচনায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গত বছর ৮ আগস্ট থেকে চলতি বছর ৪ আগস্ট পর্যন্ত উপসচিব পদে ১৪১, যুগ্ম সচিব পদে ৪২৪, অতিরিক্ত সচিব পদে ১৪৯, গ্রেড-১ পদে ২৬ এবং সচিব বা সিনিয়র সচিব পদে ৪৫ জনসহ ৭৮৫ কর্মকর্তাকে নিয়মিত পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে সচিব পদে ১১৯, গ্রেড-১ পদে ৪১, অতিরিক্ত সচিব পদে ৫২৮, যুগ্ম সচিব পদে ৭২ এবং উপসচিব পদে চারজনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

বিকেপি/এমবি 

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর