Logo

সারাদেশ

শীর্ষ চরমপন্থি নেতা কালুর সহযোগী রাজু গ্রেপ্তার

Icon

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৫, ২১:১৯

শীর্ষ চরমপন্থি নেতা কালুর সহযোগী রাজু গ্রেপ্তার

জাসদ গণবাহিনীর আদলে নিজ নামে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কুষ্টিয়া ইবি থানার আব্দালপুর গ্রামের কালু। হত্যা, হাট-ঘাট দখল এবং অবৈধ অস্ত্র ও দলে নতুন নতুন ক্যাডার ভিড়িয়ে গড়ে তুলেছে নিজস্ব বাহিনী। সে নিষিদ্ধ এই বাহিনীর ভাণ্ডার রক্ষক রাজুকে আটক করেছে ইবি থানা পুলিশ।

গত ২৩ জুন রাতে চরমপন্থি সংগঠন জাসদ গণবাহিনীর প্রধান কালুর সেকেন্ড ইন কমান্ড রাজু আহমেদকে পশ্চিম আব্দালপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা পুলিশ। আটক রাজু আহমেদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পশ্চিম আব্দালপুর গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের ছেলে ও শীর্ষ সন্ত্রাসী কালুর চাচাতো ভাই। সম্প্রতি ইবি থানার মধুপুরে গুলিতে নিহত টুটুল হত্যাকাণ্ডে তাকে আসামি করে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইবি থানা পুলিশের হাতে আটক আসামি রাজু আহমেদ চরমপন্থি সংগঠন জাসদ গণবাহিনীর প্রধান কালুর সেকেন্ড ইন কমান্ড। কুষ্টিয়া জেলাসহ ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ি, পাবনা, নাটোর এলাকার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী এই কালু। তার একাধিক ডাক নাম রয়েছে, বড় কালু ওরফে আলী রেজা ওরফে বুলবুল ওরফে কমল দা। সে মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। কালু বেশির ভাগ সময় দেশের বাইরে পলাতক থেকে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হাট-ঘাট ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে করে, বিরোধিতা করলে গুলি করে হত্যা করে, তারপর স্বীকারোক্তি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে কালু বাহিনী। উল্লিখিত অঞ্চলের হাট-ঘাট, বালু মহল, চর, দখল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

মাঠ পর্যায়ে আসামি রাজু তার সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে কাজ করছে। প্রতিদিন একাধিক বার অডিও/ভিডিও কলে যোগাযোগ করে মাঠ পর্যায়ের সার্বিক অবস্থা তাকে জানান এবং হাট-ঘাট, বালু মহল, টেন্ডার ইত্যাদির অর্থের নির্দিষ্ট অংশ কালুকে প্রেরণ করে। কালু  দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কিছুদিন গা ঢাকা দেয়। পর আবার বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়ায় গিয়ে নানা অপকর্ম শুরু করে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার ত্রিবেনী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর শ্মশানঘাট এলাকার একটি ক্যানালের পাশ থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ, নিহতদের মাথায় গুলির চিহ্ন ছিল। ঐ সময় হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় দাবি করা হয় ‘এতদ্দ্বারা ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনাবাসীর উদ্দেশ্যে জানানো যাইতেছে যে, পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি নামধারী কুখ্যাত ডাকাত বাহিনীর শীর্ষ নেতা অসংখ্য খুন, গুম, দখলদারি, ডাকাতি, ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হরিনাকুন্ডু নিবাসী মো. হানিফ তার দুই সহযোগীসহ জাসদ গণবাহিনীর সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন। তাদের লাশ রামচন্দ্রপুর ও পিয়ারপুর ক্যানালের পাশে রাখা আছে। অত্র অঞ্চলের হানিফের সহযোগীদের শুধরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হলো অন্যথায় আপনাদের একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। কালু জাসদ গণবাহিনী।'

এ ঘটনার পর থেকেই কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। কালু  নিজেদের আধিপত্য বিস্তার ও এলাকায় ভয় ছড়িয়ে দিতে এ হত্যাকাণ্ড চালিয়ে এবং তা জানিয়ে দেয়। এর পর থেকে এলাকার হাট-ঘাট ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে একক আধিপত্য দেখাতে থাকে কালু  বাহিনী। নির্দেশ না মেনে মধুপুর কলার হাট ডেকে নেওয়ায়। গত ১১ জুন মধুপুর ইটভাটা বাজারে সন্ধ্যার পরে গুলি করে হত্যা করা হয় মুদি দোকানি ও হাটে অর্থলগ্নীকার টুটুল হোসেনকে। পর ১৫ জুন ইবি থানার আব্দালপুর গ্রামের ব্যবসায়ীকে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা, দু’দিন পরে অপহৃত জাহাবক্স নামের ঐ ব্যক্তি উদ্ধার হলেও সে ঘটনায় কালুর ভাই আব্দালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও একই ইউপির চেয়ারম্যান আলী হায়দার ওরফে স্বপনকে পুলিশ আটক করে অপহরণ মামলায় জেলে পাঠিয়েছে। 

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদি হাসান আরও বলেন, রাজুর কাছ থেকে তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন, তাকে আদালতের মাধ্যমে আরও জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ হলে কালুসহ তার অন্যান্য সহযোগীদেরও গ্রেফতার করতে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, রাজু কুষ্টিয়া জেলাসহ ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ি, পাবনা, নাটোর এলাকার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী নেতা, জাসদ গণবাহিনীর প্রধান কালুর বিশ্বস্ত ও চাচাতো ভাই। এ বাহিনীর দুর্ধর্ষ ক্যাডার আলী রেজা, বুলবুল, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কমল দা। দেশের বাইরে থাকলেও এসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ করা হতো রাজুর মাধ্যমে। মাঠ পর্যায়ে আসামি রাজু বর্তমানে তার সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে এলাকায় কাজ করছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়। লিখিত ভাবে ইবি থানা থেকে জানানো হয়েছে, গত ৫ আগস্টে কুষ্টিয়া মডেল থানা হতে খোয়া খাওয়া অস্ত্র ক্রয় বিক্রয়ের ছবি/ভিডিও সে কালুকে সরবরাহ করে, যার মধ্যে একটি পিস্তল যা কুষ্টিয়া সদর থানা থেকে খোয়া যাওয়া অস্ত্র বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কুষ্টিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদি হাসানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে রাজুর সার্বিক বিষয়ে আমি তেমন কোন তথ্য দিতে পারবো না, তবে তিনি নিজেই একজন কালু, একাধিক হত্যা মামলার আসামি কালু ভারতে অবস্থান করছে কিন্তু রাজু তার নম্বর ক্লোন করে নিজেই কালু সেজে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এজাহারে উল্লেখ আছে। রাজুর স্মার্ট ফোন থেকে অনেক তথ্য পেয়েছি। এখনো সাইবার ক্রাইমে মোবাইলে তদন্তের কাজ চলছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার লুট হওয়া অস্ত্র তারা দুই ভাই কোথায় বিক্রি করল, রাজুর সাথে কার কার সম্পর্ক আছে তা উদ্‌ঘাটন জরুরি এবং রিমান্ডের মাধ্যমে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করেই আমরা আপনাদেরকে জানাবো

আকরামুজ্জামান আরিফ/এমএম

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন